বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূ হত্যা: ১৫ দিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন, স্বামী গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূ তানিয়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার প্রায় ১৫ দিনের মধ্যে নিহতের স্বামী মো. সোহাগ মিয়া জুলহাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

পিবিআই জানায়, গত ২৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সোহাগ মিয়া জুলহাস নিহত তানিয়ার খালা নাছিমা আক্তারের বাসায় যান। সেখানে তিনি জানান, তানিয়া গার্মেন্টসে গেছেন। তানিয়ার বাসার চাবি দিয়ে দুপুর ১টার দিকে সেটি তানিয়ার কাছে পৌঁছে দিতে খালাকে অনুরোধ করেন তিনি।

পরে নাছিমা আক্তার তানিয়ার কর্মস্থলে গিয়ে জানতে পারেন, ওই দিন তানিয়া গার্মেন্টসে যাননি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি তানিয়ার বাসায় গিয়ে দেখেন, বাইরে থেকে দরজায় তালা দেওয়া।

বাড়িওয়ালার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করলে তানিয়ার মরদেহ দেখতে পান নাছিমা আক্তার।

এ ঘটনায় নিহতের খালা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ১০ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বপ্রণোদিতভাবে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটির তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

বাসে করে পালানোর সময় গ্রেপ্তার

পিবিআই জানায়, তদন্তের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ফতুল্লা থানার সাইনবোর্ড এলাকার চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী একটি দূরপাল্লার বাস থেকে সোহাগ মিয়া জুলহাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

যেভাবে হত্যার ঘটনা

পিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক অভাব-অনটন নিয়ে তানিয়ার সঙ্গে সোহাগের কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সোহাগ তানিয়ার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

হত্যার পর মরদেহ ঘরের ভেতরে রেখে তানিয়ার নাকে থাকা স্বর্ণের নাকফুল খুলে নেন তিনি। এরপর বাইরে থেকে ঘরে তালা দিয়ে চাবিটি তানিয়ার খালার কাছে রেখে দেন। পরে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।

পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে সোহাগের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন