রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

ইলিয়াস আলী গুম: বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীকে অপহরণ, গুম ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (৯ আগস্ট) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ইলিয়াস আলীকে অপহরণ ও গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম-খুনের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের দেওয়া জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণ ও গুমের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের নাম উঠে আসে।

পরে গত ২৬ জুলাই রাতে রাজধানীর নিজ বাসা থেকে সাইফুর রহমানকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট)। এরপর তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্ত এবং সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ আরও কয়েকজনের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ঘটনা

বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে গাড়িচালক আনসার আলীও নিখোঁজ হন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও মানবাধিকার মহলে আলোচনা রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে শুরু থেকেই অভিযোগ করা হয়ে আসছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরা ইলিয়াস আলীকে তুলে নিয়ে গুম করেছেন।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্তের অংশ হিসেবে ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনাটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

তবে মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান থাকায় অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন