রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

কাবিনের ১৫ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধ, যাত্রাবাড়ীতে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু

ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২৬: রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মোহাম্মদ আলমগীর (২৭) নামে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, দ্বিতীয় বিয়ের পর ১৫ লাখ টাকা দেনমোহর পরিশোধ নিয়ে চাপ ও পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাতের দিকে মাতুয়াইলের গোবিন্দপুর কবরস্থান রোড এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলমগীরের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার ভোরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জসীম উদ্দীন জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ মাতুয়াইলের গোবিন্দপুর কবরস্থান রোড এলাকার একটি বাসা থেকে আলমগীরের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের প্রথম স্ত্রী মোছা. শিরিন আক্তার জানান, প্রায় তিন বছর প্রেমের পর আলমগীরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের প্রায় ১০ বছরের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তার দাবি, সম্প্রতি আলমগীর দ্বিতীয় একটি বিয়ে করেন। ওই বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ১৫ লাখ টাকা।

শিরিনের ভাষ্য, দ্বিতীয় বিয়ের পর দেনমোহরের অর্থ পরিশোধ নিয়ে আলমগীরের ওপর চাপ তৈরি হয়। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তি বাড়তে থাকে। আর্থিক সংকটের পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধের কারণে তিনি মানসিকভাবে চাপে ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার জানায়, আলমগীর পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং ঢাকায় নির্মাণকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সীমিত আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের আর্থিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হতো।

আলমগীর কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মদন গ্রামের মৃত ছনু মিয়ার ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল গোবিন্দপুর কবরস্থান রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পারিবারিক বিরোধ, আর্থিক চাপসহ মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন