অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে নিয়েই এগোতে চায় সরকার: মির্জা ফখরুল

গণতন্ত্রে শক্তিশালী বিরোধী দলের গুরুত্বের ওপর জোর, সংস্কার ও রাষ্ট্র মেরামতে সংসদীয় আলোচনার আহ্বান

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়নসহ দেশের যেকোনো রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় সরকার বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চায়। তার মতে, কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা অপরিহার্য।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ’

মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ সাংবিধানিক ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগিয়ে নেওয়া হবে।

তার ভাষ্য, ইতোমধ্যে সংসদে এ-সংক্রান্ত একটি সংশোধনী কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মতপার্থক্য থাকলেও তা সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

‘গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য সরকার ও বিরোধী—উভয় পক্ষের গঠনমূলক ভূমিকা জরুরি। তবে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান বিরোধী দলের কিছু বক্তব্য আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং এ ধরনের অবস্থান রাজনৈতিক পরিবেশকে ইতিবাচক করে না।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, একটি মহল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরেন

বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দলটির অসংখ্য নেতাকর্মী মামলা, কারাবরণ, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত হয় এবং সেই ত্যাগের ফলেই জনগণ গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছে।

‘রাষ্ট্র মেরামতে সংসদই হবে আলোচনার কেন্দ্র’

সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো সংসদে আলোচনা করেই সমাধান করা উচিত। জনগণের স্বার্থে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বিরোধী দলকে ধৈর্যের আহ্বান

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময় অতিবাহিত হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সময় ও সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত ছিলেন

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সংগঠনের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাব, তথ্য অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন