অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

‘অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং থাকবো’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শরিক নেতাদের নিয়ে যমুনায় নৈশভোজ | ধৈর্য ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান

“আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো। আপনাদের ছেড়ে যাওয়ার কোনো যুক্তিই নেই। তাই আসুন আগামীতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি।”

সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজের পূর্বে প্রদত্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জনগণের সমর্থনই আসল শক্তি

জোট নেতাদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ছোট ভাই হিসেবে বলবো, আমাদের সকলকে ধৈর্য ধরতে হবে। জনগণের প্রত্যাশার জায়গাগুলো আগে খুঁজে বের করে তা পূরণ করার চেষ্টা করতে হবে। এটা করতে গিয়ে কোনো কোনো জায়গায় দ্বিমত হতে পারে, তবে আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ বা ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, জনগণের সমর্থনই আন্দোলনের শরিক দলগুলোর মূল শক্তি। জনগণের সমর্থন যতদিন থাকবে, ততদিন এই রাজনৈতিক শক্তির ভিত্তি অটুট থাকবে।

“কাজেই আমাদের মধ্যে যদি কোনো বিভেদ না থাকে, আমরা নিশ্চয়ই আমাদের ৩১ দফার আলোকেও হোক কিংবা জুলাই সনদের আলোকে হোক ইনশাআল্লাহ সকলে মিলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।” — তারেক রহমান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

‘গুপ্ত’ রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা

একটি বিশেষ দলের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজপথে আন্দোলনের সময় যাদের দেখা যায়নি, ৫ আগস্টের পর তাদের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, “আন্দোলন সংগ্রামে আমরা রাজপথে ছিলাম। অথচ আজকে অনেকেই এই সংগ্রামের দাবিদার হতে চায়। একটি শব্দ ‘গুপ্ত’ ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষ তাদের চেনে। স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর তারা ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছে। এসব গুপ্তদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ও ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা রূপরেখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, স্বৈরাচারের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে সমমনা দলগুলো এই সংস্কার প্রস্তাব জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিল। তিনি মনে করেন, জনগণ এই ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে এবং এটি এখন পুরো দেশের সম্পদ।

বিগত সরকারের ১৭ বছরের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, শতভাগ না হলেও নতুন সরকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে সক্ষম হয়েছেন তারা। আগামীতে সরকার পরিচালনায় শরিকদের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

যমুনায় দিনভর রাজনৈতিক আবহ

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যমুনায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শরিক ও জোট নেতাদের টেবিলে টেবিলে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম।

নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী বুফেতে দাঁড়িয়ে শরিক নেতাদের সঙ্গে খাবার নেন এবং শীর্ষ নেতাদের সাথে এক টেবিলে অংশ নেন। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং ৪১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন