বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতায় দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর, দ্রুত সমাধানে কাজ চলছে

ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম শহরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সমস্যা নিরসনে সরকার কাজ করছে এবং যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

বুধবার সংসদ অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান পয়েন্ট অব অর্ডারে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।

তিনি বলেন, “এই কষ্টের জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী সকল নাগরিকের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসা যায়।”

প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি সংবাদমাধ্যমে দেখেছেন চট্টগ্রাম শহরের একটি বড় অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে এবং মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। তিনি বলেন, এ সমস্যা শুধু চট্টগ্রামের নয়, বরং দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকার অনেক স্থানেও বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা।

তিনি আরও বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারা দেশে খাল খননের মাধ্যমে জলাধার তৈরি করেছিলেন, যা বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান সরকারও সেই উদ্যোগে ফিরে গেছে এবং ইতোমধ্যে খাল খনন, ড্রেন পরিষ্কার ও নালা সংস্কারের কাজ শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরের খাল, ড্রেন ও নালায় প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতলসহ বিভিন্ন বর্জ্য ফেলে মানুষ অসচেতনভাবে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। সরকার নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার সেগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, প্লাস্টিক, বোতল ও পলিথিনের ব্যবহার কমানো এবং সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, সংসদ সদস্যদেরও জনগণকে সচেতন করার নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন