বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

রহস্য উদঘাটন: গ্রেফতার আল-আমিন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে

১৯ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে অজ্ঞাত এক শিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অভিযুক্ত আল-আমিন (৩৪) কে গ্রেফতার করে আদালতে উপস্থাপন করা হলে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। অপর অভিযুক্ত সাদ্দামকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই যাত্রাবাড়ীর আনোয়ারা আবাসিক হোটেলের ২৫৬ নম্বর কক্ষ থেকে একটি অজ্ঞাত শিশুর (প্রায় ১২ বছর বয়সী) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ১৫ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর-৫৬/৬৬৪, ধারা ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি)। পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ তখন থেকেই ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে।

পিবিআই-এর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নি:) মো. কবির হোসেন প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে সক্ষম হন। ১৮ জুলাই রাতে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী রেলস্টেশন রোড এলাকা থেকে আল-আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে তিনি হত্যার বিস্তারিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ১২ জুলাই সকাল ১০টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনে ভিকটিমের সঙ্গে আল-আমিন ও তার সহযোগী সাদ্দামের পরিচয় হয়। ছেলেটি তখন একদিন ধরে কিছু না খেয়ে ছিল এবং বরিশালের ট্রেন খুঁজছিল। আল-আমিন তার জন্য খাবার ও জুতা কিনে দেয় এবং সারাদিন নিজেদের সঙ্গে রাখে। রাতে তাকে যাত্রাবাড়ীর হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে বিদ্যুৎহীন কক্ষে দুই অভিযুক্ত মিলে শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়।

১৩ জুলাই সকালে শিশুটি আরও অসুস্থ বোধ করলে অভিযুক্তরা আবারও যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালায়। শিশুটি বাধা দিলে তারা নির্যাতনের মাত্রা বাড়ায়। মারধরের একপর্যায়ে তাকে খাট থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর বারবার নির্যাতনের ফলে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে জবানবন্দিতে স্বীকার করেছে গ্রেফতার আল-আমিন।

ভিকটিমের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে সে বরিশাল জেলার বাসিন্দা। তার পরিচয় শনাক্তে পিবিআই উঘঅ (Unidentified Human Genetic Analysis) প্রোফাইল তৈরি করেছে এবং বরিশাল জেলায় তথ্য সংগ্রহে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

এ বিষয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন, পিপিএম-সেবা জানান, “এটি একটি নির্মম ও হৃদয়বিদারক অপরাধ। আমরা অপর অভিযুক্ত সাদ্দামকে দ্রুত গ্রেফতারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি এবং ভিকটিমের পরিচয় শনাক্তে সম্ভাব্য সব মাধ্যম ব্যবহার করছি।”


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন