বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

উদীচী সভাপতি বদিউর রহমানের মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোক

১৭ জুলাই ২০২৫, ঢাকা

বাংলাদেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান আর নেই। বুধবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে জানান, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে রাতেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় অধ্যাপক বদিউর রহমানের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নেওয়া হবে, যেখানে সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সর্বস্তরের নাগরিকরা শ্রদ্ধা জানাবেন। পরে তাঁর মরদেহ নিজ জেলা বরিশালে নিয়ে দাফন করা হবে।

অধ্যাপক বদিউর রহমান ১৯৪৭ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ২০০৪ সালে অবসরে যান। পেশাগত জীবনে সাহিত্যতত্ত্ব, গবেষণা, অনুবাদ ও সম্পাদনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৫০-এর বেশি, যার মধ্যে সাহিত্য স্বরূপ, ধ্রুপদী সাহিত্যতত্ত্ব, বাংলার চারণ মুকুন্দদাস, উপন্যাস ও জনগণ, এবং সত্যেন সেন রচনাবলি (৯ খণ্ড) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

আশির দশকে উদীচীর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন বদিউর রহমান। নব্বইয়ের দশকে তিনি সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২২ সালের জুনে উদীচীর ২২তম জাতীয় সম্মেলনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদেই বহাল ছিলেন। তবে সংগঠনের শেষ সময়টায় তাঁকে রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ২৩তম জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিনে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উদীচীর ভেতর মতবিরোধ দেখা দেয়। সংঘর্ষের পর সংগঠনের একটি অংশ তাঁর নেতৃত্ব মানতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর জুনে অসমাপ্ত সম্মেলন সম্পন্ন করে উদীচীর বৃহৎ অংশ তাঁকেই পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত করে।

অধ্যাপক বদিউর রহমানের প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে। তিনি ছিলেন একজন নিরলস চিন্তক, সাহিত্যতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক, যাঁর জীবনব্যাপী সাধনা প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণে উৎসর্গিত ছিল। তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন