বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

আয়কর নথি গায়েব, ঘুষ-অনিয়মসহ তিন অভিযোগে দুদকের অভিযান

১৪৬ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে শুরু করে ঘুষের বিনিময়ে কর মওকুফ এবং হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় অনিয়ম—বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানীসহ দেশের তিনটি স্থানে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। বুধবার (৯ জুলাই) এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, প্রথম অভিযানে কর অঞ্চল-৫, সার্কেল-৯০ (কোম্পানি)-তে দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, করদাতা এক কোম্পানির আয়কর নথি গায়েব করে ১৪৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫৫৩ টাকা সরকারের রাজস্ব ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।

দুদক জানায়, ২০২০-২০২১ এবং ২০২১-২০২২ করবর্ষে একটি প্রতিষ্ঠানের যথাক্রমে ৭২ কোটি ৯৬ লাখ এবং ৭৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা কর নির্ধারিত হলেও পরবর্তীতে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেই করদাবি শূন্য এবং মাত্র ১ হাজার ২৯৯ টাকায় নামিয়ে আনেন। অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট মূল নথিপত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুদকের প্রাথমিক ধারণা, নথিপত্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে গায়েব করা হয়েছে। পুরো ঘটনা নিয়ে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় অভিযানে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে কর মওকুফ এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হয়। দুদকের টিম মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল যাচাই করে এবং ভূমি অফিস থেকে রেকর্ড সংগ্রহ করে। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে এলাকাও পরিদর্শন করা হয়। অভিযান শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।

পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবায় হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগে তৃতীয় অভিযান চালায় দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম ছদ্মবেশে হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসক উপস্থিতি, ওষুধ বিতরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রোগীদের খাবারের মান সরেজমিনে পরীক্ষা করে। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ যাচাই করা হয়। তল্লাশিতে কয়েকটি অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ বিষয়েও কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, তিন ক্ষেত্রেই প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন