বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

রেকর্ড রুশ হামলায় কেঁপে উঠলো কিয়েভ, নিহত ১, আহত ২৬

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। শুক্রবার সকালে রাজধানীর আকাশে ঘন ধোঁয়ার চাদর দেখা যায়। রাতজুড়ে আকাশে ড্রোনের গুঞ্জন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলির শব্দ এবং বিশাল বিস্ফোরণের আওয়াজ কিয়েভের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করে তোলে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে রাশিয়া রেকর্ড ৫৫০টি ড্রোন এবং ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ৭২টি ড্রোন ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একে যুদ্ধের অন্যতম “সবচেয়ে প্রদর্শনমূলক ও নির্দয় হামলা” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “রাশিয়া আবারও দেখিয়ে দিল যে, যুদ্ধ শেষ করতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই।” তিনি আন্তর্জাতিক মিত্রদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি, মস্কোর ওপর চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা কর্মীরা কিয়েভে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আগুন নেভাচ্ছেন। কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, উদ্ধারকাজের সময় স্ভিয়াতোশিনস্কি জেলায় একটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

হামলায় কিয়েভের রেল অবকাঠামো, স্কুল, বিভিন্ন ভবন ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্বাফ শিকর্সকি জানিয়েছেন, হামলায় পোলিশ কনস্যুলেটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া সুমি, খারকিভ, দিনিপ্রোপেত্রভস্ক এবং চেরনিহিভ অঞ্চলেও হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “কিয়েভ শাসনব্যবস্থার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের” জবাবে এই “ম্যাসিভ স্ট্রাইক” চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার দক্ষিণের রোস্তভ অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় সীমান্তবর্তী এক গ্রামে এক নারী নিহত হয়েছেন।

এই হামলার আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে ফোনালাপ হয়। ওই আলাপের পর ট্রাম্প বলেন, “পুতিন যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত নন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।”

পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বিবিসিকে বলেন, “রাশিয়ার লক্ষ্য রাজনৈতিক-রাজনৈতিক উপায়ে অর্জন সম্ভব না হলে, আমাদের বিশেষ সামরিক অভিযান চলবে।”

এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করবে এবং যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সমস্যা তৈরি করবে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, “আমরা অস্ত্র দিচ্ছি” এবং “সম্পূর্ণভাবে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হয়নি।” তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করে বলেছেন, “তাদের (ইউক্রেনকে) অনেক বেশি অস্ত্র দিয়ে আমাদের দেশকে ফাঁকা করে ফেলা হয়েছে।”

এ বিষয়ে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত বজায় রাখার প্রয়োজন তিনি বুঝতে পারছেন, তবে ইউক্রেনের প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা নমনীয়তা আশা করছেন। এদিকে, জার্মানির এক সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর তিন বছরের বেশি সময় পরও যুদ্ধের অবসান নিয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বরং, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রুশ হামলার মাত্রা বেড়েছে, যখন শান্তি আলোচনাও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন