বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় তিনজন নিহত, আহত অন্তত ৪৫

রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলের ইঝেভস্ক শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ৪৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন উদমুর্তিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্দর ব্রেচালভ। ঘটনার পর অঞ্চলটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

রুশ কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলার লক্ষ্য ছিল ইঝেভস্কের কুপল ইলেকট্রোমেকানিক্যাল প্ল্যান্ট। এটি সামরিক কারখানা হিসেবে পরিচিত, যেখানে টর সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম এবং রাডার স্টেশন তৈরি হয়। এছাড়াও ওসা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং ড্রোন উৎপাদনেও বিশেষায়িত এ প্রতিষ্ঠান।

ইউক্রেনের এক কর্মকর্তা বিবিসি ইউক্রেনকে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ) প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার দূর থেকে দুটি দূরপাল্লার ড্রোনের মাধ্যমে এই হামলা চালায়। কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের প্রতিটি বিশেষ অভিযান শত্রুর আক্রমণাত্মক সক্ষমতা হ্রাস করে, সামরিক উৎপাদন শৃঙ্খল ভেঙে দেয় এবং প্রমাণ করে যে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও কোনো নিরাপদ এলাকা নেই।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং বিবিসি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, কারখানার একটি ভবনের ছাদে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উড়তে থাকে।

রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ইঝেভস্ক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পর আবার চালু করেছে।

এটি নভেম্বরের পর কুপল কারখানায় দ্বিতীয় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা। তবে আগের হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

অন্যদিকে, মস্কো ইউক্রেনে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গত সপ্তাহান্তে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে কিয়েভ এবং লভিভে, রেকর্ড ৫৩৭টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার নিহত এফ-১৬ পাইলট লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাকসিম উস্তিমেঙ্কোকে মরণোত্তর “হিরো অব ইউক্রেন” উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি রাশিয়ার বিমান হামলা প্রতিরোধের সময় নিহত হন।

এদিকে, মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দুই বছরেরও বেশি সময় পর টেলিফোনে কথা বলেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতার প্রতি অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার আহ্বান জানান।

পুতিন বলেন, ইউক্রেন সংকট পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সৃষ্ট। তিনি বলেন, “যেকোনো শান্তি চুক্তি অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত হতে হবে এবং নতুন ভূখণ্ড-বাস্তবতার ভিত্তিতে তৈরি হতে হবে।”

রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করে এবং বর্তমানে প্রায় ২০ শতাংশ ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সুমি অঞ্চলে রাশিয়ার অগ্রগতি থমকে থাকলেও, পূর্ব দ্নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে মস্কো নতুন করে হামলা চালাচ্ছে। রুশ সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মস্কোর বাহিনী ওই অঞ্চলের একটি গ্রাম নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

মার্কিন দূত কিথ কেলোগ এক্স-এ লিখেছেন, “রাশিয়া কেবল সময় নষ্ট করছে, আর এদিকে ইউক্রেনের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বোমাবর্ষণ করছে।” মস্কো দ্রুত এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা কোনো আলোচনায় বিলম্ব করতে চায় না।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন