বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্তে সম্মতি ইসরায়েলের, চূড়ান্ত সমঝোতার অপেক্ষা

মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝে আলোচনার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলিতে ইসরায়েল সম্মতি জানিয়েছে। তবে এই শান্তি প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে বলেছেন, “আমি আশা করি হামাস এই প্রস্তাব গ্রহণ করবে, কারণ এটি আর ভালো হবে না, বরং আরও খারাপ হতে পারে।”

ইসরায়েল যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের বক্তব্যের বিষয়ে নিশ্চিত করে কোনো বিবৃতি দেয়নি, তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সা’আর বলেছেন, জিম্মিদের মুক্তির লক্ষ্যে একটি সমঝোতার ফ্রেমওয়ার্কের পক্ষে সরকারের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।

অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকে সতর্ক প্রতিক্রিয়া এসেছে। হামাসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা একটি চুক্তি করতে “প্রস্তুত এবং আন্তরিক”, তবে এটি যুদ্ধের পুরোপুরি অবসান নিশ্চিত করতে হবে। হামাসের এক শীর্ষস্থানীয় আলোচক জানিয়েছেন, প্রস্তাবে মূল বিষয়গুলোর পরিবর্তন হয়নি এবং জুনে প্রত্যাখ্যাত আগের প্রস্তাবের সঙ্গে এটি খুব বেশি আলাদা নয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধে ইতি টানতে ইসরায়েলের মূল শর্ত জিম্মিদের মুক্তি। এখনও গাজায় প্রায় ৫০ জন জিম্মি রয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জনের বেশি জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরতির পক্ষে বড় একটি জনমত তৈরি হলেও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওপর আস্থা অনেকের নেই।

নেতানিয়াহু বারবার “হামাসের বিরুদ্ধে পূর্ণ বিজয়” না আসা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। তবে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান চাপ তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে হামাসের পক্ষে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন গাজির প্রতিনিধি ঘাজি হামাদ। ফিলিস্তিনি পক্ষের এক সূত্র বলছে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো নতুন কোনো প্রস্তাব আনেনি, বরং আগের প্রস্তাবগুলোকেই কিছুটা পরিবর্তন করে উপস্থাপন করছে।

বর্তমান খসড়া চুক্তিতে যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের নিশ্চয়তা নেই এবং ১৯ জানুয়ারির পূর্ববর্তী সীমান্ত অবস্থানে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত নয়।

ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের কথা জানিয়ে বলেছেন, তিনি “দৃঢ় অবস্থান” নেবেন। তবে হামাসের শীর্ষ নেতারা যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা ছাড়া চুক্তির ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক মহল গাজায় পূর্ণ মাত্রার মানবিক ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য জোরালোভাবে চাপ দিচ্ছে। এরই মধ্যে গাজার মানবিক ফাউন্ডেশনের (GHF) ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৪০৮ জন মানুষ ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় অন্তত ৫৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব।

তবে ট্রাম্পের আশাবাদের সুর এবং হামাসের সতর্ক অবস্থান — দুইয়ের মধ্যে ফারাক থাকায় চূড়ান্ত সমঝোতা কবে হবে, তা এখনও অনিশ্চিত রয়ে যাচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন