একদিকে সংসারের দায়িত্ব, অন্যদিকে পড়ালেখা -দুই সামলাতে ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালাত ১৬ বছরের কিশোর তমাল আলী। তেলের দোকানে কাজ করে কিছু টাকা জমিয়েছিল সে। বাকি টাকা ঋণ করে ৬৫ হাজার টাকায় কিনেছিল একটি অটোভ্যান। সেই ভ্যান চালিয়েই চলত তার সংসারে আর্থিক সহযোগিতা ও নিজের পড়ালেখার খরচ। কিন্তু মাত্র আড়াই মাসের মাথায় অভিনব কৌশলে ভ্যানটি চুরি হয়ে গেছে। এখন শুধু জীবিকার সম্বলই হারায়নি, অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার শিক্ষাজীবনও।
তমাল আলী লালপুর উপজেলার ছালামপুর এলাকার বাসিন্দা। সে বাগাতিপাড়া উপজেলার তোকিনগর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু ভ্যানটি হারিয়ে এখন কীভাবে সংসার ও পড়ালেখা চালাবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে কিশোরটি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর এলাকা থেকে মালামাল পরিবহনের কথা বলে দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি তার অটোভ্যানটি রিজার্ভ ভাড়া করেন। তারা নাটোর থেকে হারপিকের কার্টন নিয়ে যাওয়ার কথা জানান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভ্যান নিয়ে ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে নাটোর শহরের নিচাবাজার এলাকায় পৌঁছায় তমাল। বেলা আনুমানিক ১২ টার দিকে নাটোর পৌরসভার পশ্চিম পাশে রাজন কম্পিউটারের দোকানের সামনে ভ্যানটি রেখে অবস্থান করছিল সে। এ সময় দুই ব্যক্তির একজন তমালকে জানান, অপর ব্যক্তি ভ্যানটি দেখছেন। এরপর মালামাল আনতে তাকে সঙ্গে নিয়ে কাঁচাবাজারের দিকে যান।
কাঁচাবাজারের ভেতরে প্রায় ৫০ মিটার যাওয়ার পর ভ্যানে তালা না দেওয়ার কথা মনে পড়ে তমালের। দ্রুত ফিরে এসে রাজন কম্পিউটারের দোকানের সামনে গিয়ে দেখে, ভ্যানসহ সেখানে নেই অপর ব্যক্তিও। পরে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে এবং কাঁচাবাজারে খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানটির কোনো সন্ধান পায়নি সে।
তমালের দাবি, দুই ব্যক্তি তার সরলতার সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কৌশলে অটোভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় তিনি নাটোর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তমাল জানান, পরিবারের জন্য ভ্যানটি ছিল একমাত্র সম্বল। তেলের দোকানে কাজ করে জমানো টাকা এবং বাকি টাকা ঋণ করে ভ্যানটি কিনেছিল সে। মাত্র আড়াই মাস আগে কেনা সেই ভ্যানই ছিল তার আয়ের একমাত্র অবলম্বন। ভ্যান চালিয়ে সংসারে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি নিজের পড়ালেখার খরচও জোগাত সে।
ভ্যান হারিয়ে এখন দিশেহারা তমাল। সামনে বোর্ড ফাইনাল পরীক্ষা। অথচ জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে কীভাবে পড়ালেখা চালিয়ে যাবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কিশোর বয়সেই সংসারের হাল ধরতে গিয়ে যে ভ্যানটি কিনেছিল, সেটিই এখন তার শিক্ষাজীবন থমকে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তোকিনগর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আব্দুল আওয়াল বলেন, একটি ভ্যান চুরির ঘটনা তমালের কাছে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, তার স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের ওপরও বড় আঘাত। ভ্যানটি ফিরে পাওয়া কিংবা নতুন করে জীবিকার ব্যবস্থা না হলে হয়তো মাঝপথেই থেমে যেতে পারে তার পড়ালেখা।
নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মুনসুর রহমান অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানানেন না বলে জানান।

