মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেত্রকোণায় মাঠকর্মীদের প্রশিক্ষণ

ডিসেম্বরের মধ্যে পৌরসভার প্রায় ২৯ হাজার ৭৭৩ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা; চলতি অর্থবছরে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নেত্রকোণায় মাঠপর্যায়ের তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের সম্মেলনকক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শহর সমাজসেবা কার্যালয় এ কর্মশালার আয়োজন করে।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক।

ফ্যামিলি কার্ডকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিচয়পত্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। চলতি বছরের মধ্যেই দেশের প্রতিটি উপজেলায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যম নয়। ভবিষ্যতে এ কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকেরা সামাজিক নিরাপত্তা ভাতাসহ চাকরি, ব্যাংকিং এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কিত সেবা ও তথ্য পাবেন।

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মতো ফ্যামিলি কার্ডও ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিচয়পত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব

অতীতের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিতে অনিয়ম ও ভুলত্রুটির প্রসঙ্গ তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, এ ধরনের জটিলতা এড়াতে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত জরুরি।

মাঠপর্যায়ের তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সততা, আন্তরিকতা ও ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। সাধারণ মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং কেউ বিরূপ আচরণ করলেও ধৈর্য ধরে তাঁদের বক্তব্য শুনতে হবে বলে নির্দেশনা দেন।

এ ছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক সহায়ক কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ডিসেম্বরের মধ্যে পৌরসভার প্রায় ২৯ হাজার ৭৭৩ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ

কর্মশালায় জানানো হয়, দ্বিতীয় ধাপে নেত্রকোণা পৌরসভায় একজন সুপারভাইজার ও ২৭ জন তথ্যসংগ্রহকারীর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণ শেষে মোট চারজন সুপারভাইজার ও ৪৪ জন তথ্যসংগ্রহকারীর সমন্বয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পৌরসভার আনুমানিক ২৯ হাজার ৭৭৩টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ এবং ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরে প্রক্সিমিটি মিনিং টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে ডেটাবেজ থেকে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে বলে কর্মশালায় জানানো হয়।

চলতি অর্থবছরে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য

কর্মশালায় জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সুবিধাসম্পন্ন ফ্যামিলি কার্ড সরকারের অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের ‘পয়েন্ট অব সেলস’ (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন যারা

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব হোম দাস। এ ছাড়া সুপারভাইজার মীর ইসতিয়াক আহমেদ, তাকলিমা আহসান এবং নেত্রকোণা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন বক্তব্য দেন।

শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মহিবুল্লাহ হকের সঞ্চালনায় কর্মশালায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা, জেলা বিএনপির নেতারা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন