মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের লক্ষ্য দুই কোটি মানুষ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দুই কোটি মানুষকে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য; ২০২৬–২০৩০ মেয়াদে জাতীয় চক্ষু স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

দেশের নাগরিকদের অন্ধত্ব ও দৃষ্টিত্রুটি দূর করতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিনামূল্যে ১০ লাখ মানুষের চোখের ছানি অস্ত্রোপচার এবং ১ কোটি চশমা বিতরণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সময়ের মধ্যে জাতীয় রেফারেল সুবিধার মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি মানুষকে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ব চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলনে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে সরকারের এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ উদ্যোগে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা সরকারের আয়োজনে এ বৈশ্বিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ।

জাতীয় চক্ষু স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে জাতীয় চক্ষু স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি জানান, এ পরিকল্পনার আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে সম্প্রসারিত রেফারেল সুবিধার মাধ্যমে ২ কোটি মানুষকে চক্ষু চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি দৃষ্টিত্রুটি দূর করতে ১ কোটি চশমা বিতরণ এবং ১০ লাখ মানুষের চোখের ছানি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্ধত্বের নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতি ও মানবসম্পদে

প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিহীনতা শুধু মানবিক বিপর্যয় নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপরও এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সুস্থ দৃষ্টিশক্তি অপরিহার্য।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিত্রুটি কমানো গেলে ব্যক্তির জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রত্যেক নাগরিকের চোখ পরীক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের চোখ পরীক্ষা এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের জাতীয় অঙ্গীকার। জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে অন্ধত্ব ও দৃষ্টিত্রুটি প্রতিরোধ, সচেতনতা তৈরি এবং এসব সমস্যার বিস্তার রোধে কাজ চালিয়ে যাবে সরকার।

সবার জন্য চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে স্পষ্ট দৃষ্টি নিশ্চিতের আহ্বান

সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে এম এ মুহিত বলেন, বিশ্বজুড়ে সবার জন্য স্পষ্ট দৃষ্টি বা ‘ক্লিয়ার ভিশন’ নিশ্চিতের এ বৈশ্বিক প্রচেষ্টা মানব ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন