সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১,২৫৭

গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ দেখা গেছে ১,৪৯২ জনের; হাসপাতালে ভর্তি ১,৩৮৫ জন

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাঁদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ১৫২ জন এবং পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৫ জন।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

ঢাকা বিভাগে উপসর্গজনিত মৃত্যু ৫১১

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৫১১ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিলেটে ২০২ জন, চট্টগ্রামে ১১২, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৯, বরিশালে ৬৯, খুলনায় ৫৭ এবং রংপুরে ১৮ জন মারা গেছেন।

এ হিসাবে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, বরিশাল ও রংপুরে একজন করে মারা গেছেন।

এক দিনে উপসর্গ দেখা গেছে ১,৪৯২ জনের

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ৪৯২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। একই সময়ে ৫৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৮৫ জন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে ৪৭৬ জন, চট্টগ্রামে ৩১১, সিলেটে ১৪১, বরিশালে ১৫০, খুলনায় ১২৫, ময়মনসিংহে ১০০, রংপুরে ৩৯ এবং রাজশাহীতে ৪৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ১৬৮ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৮ জন।

হামের প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নির্ধারণে সীমাবদ্ধতা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত রোগী এবং মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে। তবে এ পরিসংখ্যান দিয়ে দেশে হাম আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন।

অধিদপ্তরের হিসাবে, হাসপাতালে আসা ও ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে আসা সব রোগীর হাম পরীক্ষা করা হয় না। একইভাবে, হাসপাতালের বাইরে থাকা সব রোগীর তথ্যও এ হিসাবের আওতায় আসে না।

ফলে সরকারি পরিসংখ্যানে নথিভুক্ত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিয়ে দেশে হাম সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন