সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

বেসরকারি স্কুলে অতিরিক্ত ফি আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

নীতিমালা জারির আগেই অভিভাবকদের ওপর ফি দেওয়ার চাপ; অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরুর সময় ঘনিয়ে এলেও বেসরকারি স্কুলের ভর্তি নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শিক্ষাবর্ষ শেষ হতে বাকি প্রায় এক মাস। এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলে পুনঃভর্তি ফি দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

চলতি মাসেই বেসরকারি স্কুলগুলোতে নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা জারি করা হলেও বেসরকারি স্কুলের নীতিমালা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ভর্তি প্রক্রিয়া ও ফি নির্ধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন অভিভাবকেরা।

নীতিমালার আগেই পুনঃভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্কুলে পুনঃভর্তি ফি আদায় না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই রাজধানীর অনেক স্কুলে অভিভাবকদের পুনঃভর্তি ফি জমা দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের নামেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।

এক অভিভাবক বলেন, ভর্তি ফি আদায়ের বিষয়টি সরকারের তদারকি করা প্রয়োজন, যাতে স্কুলগুলো অতিরিক্ত টাকা নিতে না পারে। তাঁর মতে, এভাবে বাড়তি অর্থ আদায় করা হলে অভিভাবকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

সরকারি স্কুলের নীতিমালা জারি, বেসরকারি স্কুলে অনিশ্চয়তা

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আর দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে পরীক্ষার মাধ্যমে।

তবে বেসরকারি স্কুলগুলোতেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এ কারণে দ্রুত ভর্তি নীতিমালা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।

এক অভিভাবক বলেন, এখনো পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করা হয়নি। নীতিমালা না থাকলে সন্তানকে কোথায় ভর্তি করাবেন, সে বিষয়ে অভিভাবকদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

ফি আদায়ে অভিন্ন নীতিমালার পরামর্শ শিক্ষা গবেষকের

প্রতিবছর স্কুলের ভর্তি ও অন্যান্য ফি নির্ধারণ করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক নামী বেসরকারি স্কুল এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করে না। ফলে ভর্তি ও অন্যান্য ফি পরিশোধ করতে গিয়ে প্রতিবছরই ভোগান্তিতে পড়েন অভিভাবকেরা।

বেসরকারি স্কুলগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতে ফি আদায়ের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি এবং অভিন্ন নীতিমালা কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা গবেষকেরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ফি আদায়ের ক্ষেত্রে একেক স্কুল একেক ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করে। এতে অভিভাবকদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে ফি আদায়ের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।

শিগগিরই নীতিমালা, অতিরিক্ত ফি নিলে ব্যবস্থা

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেসরকারি স্কুলের ভর্তি নীতিমালা শিগগিরই জারি করা হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল সময় সংবাদকে বলেন, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কয়েক দফা সভা হয়েছে। দ্রুত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা জারি করা হবে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এবার বিষয়টি নিবিড়ভাবে নজরদারিতে রাখা হবে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খসড়া নীতিমালায় ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা

নীতিমালার খসড়া অনুযায়ী, রাজধানীর বেসরকারি স্কুলে বাংলা মাধ্যমে ভর্তির জন্য সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা নেওয়া যাবে।

তবে নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে খসড়ায় প্রস্তাবিত ফি ও ভর্তি পদ্ধতি চূড়ান্ত নির্দেশনায় অপরিবর্তিত থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন