হেমায়েতপুরে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধের খবর; একাধিক পোশাক কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও কর্মবিরতির কারণে বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশ অবরোধ করে রাখেন বলে স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং যাত্রী ও পরিবহন চালকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
কারখানায় ছুটি ঘোষণা
শ্রমিক অসন্তোষের মুখে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়ার বরাত দিয়ে ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, আন্দোলনের কারণে আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
তবে সাভার মডেল থানা এলাকার সব গার্মেন্টস কারখানা এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে—এমন তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হেমায়েতপুরে একাধিক কারখানায় ভাঙচুরের অভিযোগ
প্রাপ্ত তথ্যে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হামলা ও ভাঙচুরের শিকার কারখানা হিসেবে ১০টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো—
১. রূপকথার অ্যাপারেল
২. জিন্স ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড
৩. শপিংজোন বিডি
৪. অবনী ফ্যাশন লিমিটেড
৫. জেএফআই
৬. আমান গ্রাফিক্স
৭. ব্যাবিলন গ্রুপ
৮. দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ
৯. যমুনা ফ্যাশন
১০. একেএইচ গ্রুপের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার কারখানা।
প্রাপ্ত তথ্যে আরও বলা হয়েছে, একেএইচ গ্রুপের হেমায়েতপুরের কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব কারখানায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, আগুনে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না এবং ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রমিকদের দাবিতে উত্তপ্ত শিল্পাঞ্চল
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি শ্রমিকদের ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধ এবং বিনা কারণে চাকরিচ্যুতি বন্ধের দাবিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের কারণে আশুলিয়ার একাধিক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
শিল্প পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে হেমায়েতপুরের অবরোধ কখন প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বর্তমানে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

