সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

আলাভেসকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে লা লিগার শীর্ষে ফিরল বার্সেলোনা

রাফিনিয়া ও ইয়ামালের জোড়া গোল, প্রথমার্ধেই চার গোল; টানা দুই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারের পর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ফ্লিকের দলের

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারের ধাক্কা সামলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বার্সেলোনা। আক্রমণভাগের দুই তারকা হাফিনিয়া ও লামিন ইয়ামালের জোড়া গোলে আলাভেসকে ৬-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। এই জয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানও পুনরুদ্ধার করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

শনিবার রাতে কাম্প নউয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকেরা। দলের অন্য গোল দুটি করেন ফের্মিন লোপেস ও অ্যান্থনি গর্ডন। লোপেস গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তাও করেন।

বার্সেলোনার কোচ হিসেবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি ফ্লিকের শততম জয়।

শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার বার্সেলোনার

দিনের প্রথম ম্যাচে লেভান্তেকে ২-০ গোলে হারিয়ে বার্সেলোনাকে টপকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছিল আতলেতিকো মাদ্রিদ। তবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই নিজেদের হারানো অবস্থান ফিরে পায় বার্সেলোনা।

১১ ম্যাচে ১০ জয় ও ৩০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে কাতালান ক্লাবটি। সমান ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ১০ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে রেয়াল মাদ্রিদ।

ম্যাচে বল দখলে বার্সেলোনার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ৭৭ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৩টি শট নেয় স্বাগতিকেরা, যার সাতটি ছিল লক্ষ্যে এবং ছয়টি জালে জড়ায়। অন্যদিকে আলাভেসের সাতটি শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।

শুরুতেই রাফিনিয়ার গোলে এগিয়ে বার্সেলোনা

২০ অক্টোবর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির মাঠে ৪-০ গোলে হারের পর গত রোববার লা লিগায় নিজেদের মাঠে রেয়াল মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। সেই হতাশা কাটিয়ে জয়ে ফেরার লক্ষ্যে মাঠে নেমে অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় দলটি।

পেদ্রির চমৎকার পাস বক্সের বাঁ দিকে পেয়ে গোলমুখে বল বাড়ান ফের্মিন লোপেস। ছুটে এসে ছয় গজ বক্সের সামনে থেকে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন হাফিনিয়া।

একাদশ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল আলাভেস। তবে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে আবদে রেবাখের শট উঁচু দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে আনহেল পেরেসের জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন বার্সেলোনার গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া। কিছুক্ষণ পর লুকা বোয়ের হেড প্রতিহত করে দলকে বিপদমুক্ত করেন রদ্রি।

লোপেসের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ, রাফিনিয়ার জোড়া গোল

২৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। ইয়ামালের পাস বক্সে পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন লোপেস। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৩ ম্যাচে এটি তাঁর ষষ্ঠ গোল। পাশাপাশি পাঁচটি অ্যাসিস্টও রয়েছে এই স্প্যানিশ উইঙ্গারের।

৩২তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি হাফিনিয়া। ডান দিক থেকে ইয়ামালের পাস দূরের পোস্টে ফাঁকায় পেয়ে কাছ থেকে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান তিনি। পরের মিনিটে ইয়ামালের শট ঠেকিয়ে দেন আলাভেসের গোলরক্ষক।

তবে ৪১তম মিনিটে আর ভুল করেননি রাফিনিয়া। লোপেসের পাস বক্সের বাইরে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

এবারের লা লিগায় ১০ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫। ১১ গোল নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন রেয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপে।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান ৪-০ করেন ইয়ামাল। বক্সের ভেতর থেকে বল বাইরে থাকা ইয়ামালের দিকে বাড়ান জুয়াও কান্সেলো। সেখান থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত নিচু শটে গোল করেন ১৯ বছর বয়সী এই তারকা।

দ্বিতীয়ার্ধে জেসুসের সহায়তায় ইয়ামালের গোল

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণে আধিপত্য ধরে রাখে বার্সেলোনা। ৫৬তম মিনিটে কাছ থেকে শট নিয়ে বল উঁচুতে পাঠিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন চলতি মৌসুমে কাম্প নউয়ে আসা জার্মান উইঙ্গার কারিম আডেইয়েমি।

৬২তম মিনিটে একসঙ্গে দুটি পরিবর্তন আনেন ফ্লিক। রাফিনিয়া ও কান্সেলোকে তুলে মাঠে নামানো হয় গাব্রিয়েল জেসুস ও আলেহান্দ্রো বাল্দেকে।

মাঠে নামার দুই মিনিটের মধ্যেই দলের পঞ্চম গোলে অবদান রাখেন জেসুস। প্রতিপক্ষের ভুলে বল পেয়ে ইয়ামালের উদ্দেশে পাস দেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। চলতি লিগে ১১ ম্যাচে ইয়ামালের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০।

গর্ডনের গোল, আলাভেসের সান্ত্বনা

৭৪তম মিনিটে ইয়ামালের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন অ্যান্থনি গর্ডন। মাঠে নামার সাত মিনিটের মধ্যেই গোলের দেখা পান ইংলিশ উইঙ্গার। নিজেদের অর্ধ থেকে রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। তাতে বার্সেলোনার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৬-০।

৮৪তম মিনিটে আলাভেসের হয়ে একটি গোল শোধ করেন মারিয়ানো দিয়াস। রদ্রি বল হারানোর পর পাল্টা আক্রমণে ওঠে সফরকারীরা। বার্সেলোনার এক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান দিয়াস।

১১ ম্যাচে পঞ্চম হারের মুখ দেখা আলাভেস ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দশম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে বড় জয়ের মধ্য দিয়ে লিগের শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেয়েছে বার্সেলোনা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন