প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টোকিও–ঢাকা ফ্লাইটে কারিগরি ত্রুটির ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। ত্রুটির প্রকৃত কারণ নির্ণয়, উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও উড্ডয়ন-যোগ্যতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং এ ঘটনায় কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি। আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক এয়ার কমোডর মো. নিয়ামুল কবিরের সই করা অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিমানের পরিকল্পনা ও সময়সূচি বিভাগের প্রধানকে। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আইনবিষয়ক ব্যবস্থাপক। অন্য দুই সদস্য হলেন প্রকৌশল উৎপাদন বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী এবং ফ্লাইট সেফটি বিভাগের উপপ্রধান।
কমিটিকে উড়োজাহাজটির কারিগরি ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ ও ধরন শনাক্ত করার পাশাপাশি ত্রুটি নিরসনে নেওয়া পদক্ষেপ, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল ও পরিচালনাগত প্রক্রিয়া এবং উড়োজাহাজটির উড্ডয়ন-যোগ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্লাইট বিলম্বের কারণে পরিচালন ব্যয়, যাত্রীদের ভোগান্তি এবং বিমানের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তির ওপর কী প্রভাব পড়েছে, তা-ও মূল্যায়ন করবে তদন্ত দল।
তদন্তের আওতায় থাকবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও ভূমিকা, সম্ভাব্য অবহেলা, সমন্বয়হীনতা কিংবা প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশও দেবে কমিটি।
বিমান ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ অক্টোবর জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার আগে ফ্লাইট বিজি-৩৭৭ উড়োজাহাজটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা ছিল ওই ফ্লাইটে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় উড্ডয়নের নির্ধারিত সময় থাকলেও উড়োজাহাজটি টার্মিনাল ছেড়ে রানওয়ের দিকে যাওয়ার পর উড্ডয়নের আগে থেমে যায়। পরে পাইলট যাত্রীদের জানান, কারিগরি সমস্যার কারণে ফ্লাইটটি তখন উড্ডয়ন করতে পারছে না।
ত্রুটি শনাক্তের পর বিমানের প্রকৌশলীরা সমস্যাটি নিরসনে কাজ করেন। এ সময় যাত্রীদের উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে বিমানবন্দরের টার্মিনালে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ত্রুটি মেরামত শেষে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে উড়োজাহাজটি নারিতা থেকে ছেড়ে যায়। পরে শুক্রবার রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ঘটনার কারণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে উড়োজাহাজের স্পয়লার ব্যবস্থায় ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত কমিটির কাজের মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত ত্রুটি শনাক্ত করা এবং সেটি নিরসনে নেওয়া কারিগরি পদক্ষেপ যথাযথ ছিল কি না, তা যাচাই করা।
বিমান সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজের নিরাপদ পরিচালনায় কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে সেটির কারণ শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে উড্ডয়ন-যোগ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ, প্রকৌশলগত পরীক্ষা এবং ফ্লাইট সেফটি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ঘাটতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ত্রুটির কারণ, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন—এসব বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

