কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্ক্র্যাপ মালামাল চুরির চেষ্টা প্রতিহত করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় প্রায় ৩৫০ কেজি স্ক্র্যাপ মালামাল উদ্ধার এবং একজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মগডেইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘটনার সময় প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মো. আবুল হাশেম ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দলকে স্ক্র্যাপ মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত পাশের ডিউটি পোস্টে দায়িত্ব পালনরত আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যদের খবর দেন।
খবর পেয়ে আনসার ব্যাটালিয়নের নায়েক মো. হাফিজুর রহমান ও সিপাহি আব্দুল জলিল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁদের সঙ্গে আবুল হাশেমও অভিযানে অংশ নেন। আনসার সদস্যদের তৎপরতা টের পেয়ে চুরির চেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ৩৫০ কেজি স্ক্র্যাপ উদ্ধার করা হয় এবং একজনকে আটক করা হয়।
পরে উদ্ধার করা মালামাল ও আটক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তবে আটক ব্যক্তির পরিচয়, তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় নজর
মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো। এ ধরনের স্থাপনায় যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেন্দ্রটির কার্যক্রম সুরক্ষার অংশ। এর আগে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিয়ে সভা হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সম্পদ রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। মাতারবাড়ীর এ ঘটনায় দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা যাবে।

