রিয়াজুল শেখের শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়েছে, দগ্ধদের সবাই জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন
গাজীপুরের কাশিমপুরে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক বছরের একটি শিশুও রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাশিমপুরের সারদাগঞ্জ এলাকার একটি টিনশেড ভাড়া বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। দগ্ধ পাঁচজনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
দগ্ধদের মধ্যে শিশুও রয়েছে
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন মো. রিয়াজুল শেখ (৪০), তাঁর স্ত্রী আরিফা বেগম (৩০), মেয়ে ফারিয়া আক্তার (১৭), পুত্রবধূ রোজিনা আক্তার (১৮) এবং রোজিনার এক বছর বয়সী ছেলে আব্দুর রহিম।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ও ইমার্জেন্সি রেসিডেন্ট সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, দগ্ধদের মধ্যে রিয়াজুল শেখের শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। আরিফা বেগমের শরীরের ৫ শতাংশ, ফারিয়ার ৮ শতাংশ এবং রোজিনার ১ শতাংশ পুড়েছে। শিশু আব্দুর রহিমের শরীরের ১ শতাংশেরও কম দগ্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, তাঁদের সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গ্যাসের গন্ধ পেয়ে খোলা হয় পাশের কক্ষের দরজা
রিয়াজুল শেখের ছেলে মো. আকাশ জানান, তাঁরা কাশিমপুরের সারদাগঞ্জ এলাকার একটি টিনশেড বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাঁদের পাশের কক্ষে এক নারী ভাড়া থাকেন। বৃহস্পতিবার সকালে ওই নারী কক্ষের দরজায় তালা দিয়ে কর্মস্থলে চলে যান।
এর কিছুক্ষণ পর ওই কক্ষ থেকে তীব্র গ্যাসের গন্ধ বের হতে থাকে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই নারীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। পরে কক্ষটির দরজা খোলা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা কৌতূহলবশত দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
আকাশ আরও জানান, দরজা খোলার পর কক্ষের ভেতরে গিয়ে লাইটের সুইচ চালু করতে গেলে বিকট শব্দে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন।
প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে, পরে ঢাকায় স্থানান্তর
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।

