জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায়; চার আসামির সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় অন্য তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হানিফসহ চার আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ
রায়ে চার আসামির সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
উসকানি, ষড়যন্ত্র ও ছয় হত্যার অভিযোগ
আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, ষড়যন্ত্র করা এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালিত হয়।
যেভাবে এগিয়েছে মামলার বিচার
২০২৫ সালের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।
২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলায় ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরে প্রসিকিউশন অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিল করায় নতুন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
১০ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি এবং পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। পরে অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিলের পর আবারও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
বৃহস্পতিবার সেই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

