বাকলিয়ার জোড়া খুনের মামলায় পাঁচ দিন ও সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
চট্টগ্রামের আলোচিত দুটি হত্যা মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর মধ্যে নগরের বাকলিয়া থানার জোড়া খুনের মামলায় পাঁচ দিন এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানার সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যা মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদ ও মো. আলমগীর হোসেনের আদালত পৃথক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দুপুরে ডেভিড ইমনকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে দুই মামলায় মোট সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
বাকলিয়ায় জোড়া খুনের ঘটনা
বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ৩০ মার্চ রাতে। ওই দিন নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে বখতিয়ার হোসেন মানিক ও আবদুল্লাহ আল রিফাত নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হন।
হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলায় দুই দিনের রিমান্ড
অন্যদিকে, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী খোন্দকিয়া পাড়া এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারণায় গুলিতে সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন।
এ ঘটনায় তাঁর বাবা আবদুল কাদের বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায়ও ডেভিড ইমনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
যশোর থেকে গ্রেপ্তার, ১৫ মামলার আসামি
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুলাই ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনকে তাঁর তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। আলোচিত দুই হত্যা মামলায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পাবে পুলিশ।

