বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

উখিয়ার রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, নিখোঁজ নাসরিনের খোঁজ মেলেনি

ডিএনএ পরীক্ষায় নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে সিআইডি; ঢাকার দুই পরিবারের ১০ জনের মরদেহ মঙ্গলবার স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে ‘টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে’ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে নিখোঁজ তালিকায় থাকা স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার সন্ধান এখনো মেলেনি। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে তাঁর ডিএনএর নমুনার মিল পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) পুড়ে যাওয়া মরদেহগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা করে এবং স্বজনদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানান, মঙ্গলবার মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নিহতদের মধ্যে ঢাকার দুই পরিবারের সদস্য

ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া ১০ জনের সবাই ঢাকার দুটি পরিবারের সদস্য। তাঁদের মধ্যে একটি পরিবারের ছয়জন এবং অন্য পরিবারের চারজন রয়েছেন।

এক পরিবারের সদস্যরা হলেন ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।

অন্য পরিবারের সদস্যরা হলেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তাঁর কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), তাঁদের আরেক কাজিন ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তাঁরা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।

নিহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও রয়েছেন

নিহত মোহাম্মদ নাফিস তেহামি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস’ বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। লায়লা জাহান নাবিলা ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী।

অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের একাধিক সদস্য এবং শিশুদের প্রাণহানির ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিনের সন্ধান নেই

অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজদের তালিকায় থাকা নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানান, উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে নাসরিনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল এবং তাঁদের ডিএনএ নমুনা মিলেছে। তবে নাসরিনের নমুনার সঙ্গে কোনো মরদেহের মিল পাওয়া যায়নি।

নাসরিনের স্বামী দেওয়ান ফয়সাল ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতা। তাঁর বাবার নাম মোস্তফা কামাল।

নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন

অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট থেকে প্রথমে ১০টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়। তবে নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন ১১ জন। ফলে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা এবং নিখোঁজ ব্যক্তির হিসাবের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

ডিএনএ পরীক্ষায় ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হলেও নাসরিন আক্তার মুক্তার সন্ধান না মেলায় তাঁকে ঘিরে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন