অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

আইপিওর মাধ্যমে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় কনফিডেন্স পাওয়ার

দুই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৩৩২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা, ঋণ পরিশোধ ও আইপিও ব্যয়েও ব্যবহার হবে অর্থ

প্রায় তিন বছর পর পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে রোডশো করেছে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। গতকাল ১৮ অক্টোবর রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে যোগ্য বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজনের সামনে নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক কর্মক্ষমতা, প্রস্তাবিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ কৌশল তুলে ধরে কোম্পানিটি।

এর আগে ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যে রোডশো করেছিল টেকনো ড্রাগস লিমিটেড।

আইপিওর অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা

কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের বড় অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে কক্সবাজারের উত্তরাঞ্চলে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ২৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া বাগেরহাটের মংলায় আরও ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে কনফিডেন্স অ্যান্ড ডরিন পাওয়ার লিমিটেডে ১০২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। কোম্পানিটি বিদ্যমান ঋণের একটি অংশ পরিশোধে ৬০ কোটি টাকা এবং আইপিও-সংক্রান্ত আনুমানিক ব্যয় মেটাতে ৮ কোটি টাকা ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে।

কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি মংলা প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কনফিডেন্স অ্যান্ড ডরিন পাওয়ার লিমিটেডের ৬০ শতাংশ মালিকানা ধারণ করে।

তবে রোডশো আয়োজনের অর্থ এই নয় যে কোম্পানিটি ইতিমধ্যে আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছে। তহবিল সংগ্রহের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও সাবস্ক্রিপশনের সময়সূচি সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

রাজস্ব কমলেও বেড়েছে মোট মুনাফা

কোম্পানিটির আর্থিক বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির সমন্বিত রাজস্ব আগের বছরের ২ হাজার ৩৯৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা থেকে ২৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৭০ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

তবে রাজস্ব কমলেও মোট মুনাফা বেড়েছে। আগের অর্থবছরে ৬২৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা থাকলেও ২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৬৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের ৪৮৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা থেকে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ৪৭৭ কোটি ৪১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৩২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে কমে ৩১ টাকা ৪৩ পয়সা হয়েছে।

দুই সৌর প্রকল্পে ২০ বছরের বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি

কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে প্রস্তাবিত দুটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ২০ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি করেছে। প্রকল্প দুটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর তারিখ থেকে চুক্তির মেয়াদ গণনা করা হবে।

কোম্পানির প্রত্যাশা, প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে প্রচলিত জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাইরে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বৈচিত্র্য আসবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কোম্পানিটির উপস্থিতিও বাড়বে।

রোডশোতে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির চেয়ারম্যান ইমরান করিম, পরিচালক রেজাউল করিম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজিম আলমগীর ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এ ছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রতিনিধি, যোগ্য বিনিয়োগকারী, নিরীক্ষক, মার্চেন্ট ব্যাংকার এবং পুঁজিবাজারের অন্যান্য অংশীজন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সৌরবিদ্যুতে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের লক্ষ্য

কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির প্রস্তাবিত আইপিও কনফিডেন্স গ্রুপের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবসা সম্প্রসারণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। গ্রুপটি ২০২৮ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

আইপিওর আওতাভুক্ত দুটি প্রকল্পের বাইরে কনফিডেন্স এন্টারপ্রাইজেস ও কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পৃথক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।

বর্তমানে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি বগুড়া, রংপুর ও চট্টগ্রামে চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করছে। এসব কেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ৩৯৩ মেগাওয়াট।

কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে পরিচালনক্ষমতা প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াটে, ২০৩২ সালের মধ্যে ১ হাজার ৯৬০ মেগাওয়াটে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ২ হাজার ১৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে।

দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ হিসেবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং জ্বালানি অবকাঠামো খাতেও কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির।

রোডশোতে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, প্রকল্পের অর্থায়ন কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। প্রস্তাবিত আইপিওর ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে রয়েছে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট পিএলসি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন