প্রবাসী কর্মীদের যাতায়াত ও লাগেজ পরিবহনের সুবিধা বাড়াতে দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ২০০টি ট্রলি সরবরাহ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫০টি ট্রলি হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উদ্যোগে প্রবাসীদের লাগেজ ও মালামাল সহজে পরিবহনের সুবিধার্থে এসব ট্রলি সরবরাহ করা হয়েছে। এর আগে চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৫টি করে ট্রলি দেওয়া হয়েছে।
জাপানে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রচলিত ‘টেকনিক্যাল ইন্টার্নশিপ’ পদ্ধতির পরিবর্তে ‘এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ (ইএসডিপি) চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, নতুন চুক্তির মাধ্যমে কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। এর ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি জাপানে তুলনামূলক উচ্চ বেতন ও দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এ কারণে কাউকে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতাও চুক্তিতে রাখা হয়নি বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সৌদি আরবে বোমা হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, নিহতদের একজন অভিবাসী শ্রমিক এবং অন্যজন ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ব্যক্তি। তাঁদের একজনের বাড়ি বগুড়ায় এবং অন্যজনের বাড়ি কুমিল্লায়।
তিনি বলেন, আকাশপথের যোগাযোগ ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ামাত্রই তাঁদের মরদেহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।
সৌদি আরবে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠির জবাব পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
ট্রলি হস্তান্তর ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদসহ মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

