অনুসরণ করুন:
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মাতারবাড়ি বন্দর ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল: জাপানের মেগা পরিকল্পনা

জাপানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন বাংলাদেশের মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে একটি ‘শিল্প ভ্যালু চেইন’ গড়ে তুলতে চায় জাপান।এর মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের আগে টোকিওর কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে রোববার এ খবর জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কূটনৈতিক কর্মকর্তা ‘দ্য হিন্দু’-কে জানিয়েছেন যে, মাতারবাড়ি বন্দর বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক শিল্প কেন্দ্রে রূপ দিতে পারে এবং আঞ্চলিক সংযোগও জোরদার করতে পারে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সফরে বন্দরটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। কারণ, ২০২৬ সাল থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে মাতারবাড়ী শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পের জন্য টোকিওর কাছে আর্থিক সহায়তা চাইতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

এই সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অগাস্টে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেন। সেখানে তাকে প্রকল্পের পরের ধাপের কাজ ও সামনে আরও কি কি প্রয়োজন তা জানানো হয়।

নির্মাণকাজ শেষ হলে জাপানের সহায়তায় নির্মিত এই বন্দরই হবে বাংলাদেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর। বর্তমানে বড় জাহাজ ভেড়ানোর জন্য বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর, কলম্বো ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়।

জাপান এর আগেও ব্যাঙ্কক, ক্যাম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনামের মধ্যে একই ধরনের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগে সাহায্য করেছে।

জাপানের অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনায় গড়ে ওঠা থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া-ভিয়েতনাম উন্নয়ন করিডোর প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা ‘দ্য হিন্দু’-কে লিখিত এক জবাবে বলেন, “এক্ষেত্রে ব্যাংকক অনুকরণীয় মডেল হতে পারে। ব্যাংকক তাদের বন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক সড়কের মাধ্যমে আশেপাশের গোটা অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।”

জাপানি কূটনীতিকরা এই সংযোগ প্রকল্পকে এমন এক মডেল হিসাবে দেখছেন, যা ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়ন করা যায়।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে বাংলাদেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের বড় অংশের কাজ হয়েছিল গত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে। ওই সময় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্ন থাকায় এ ধরনের সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সহজ ছিল।

ওই সময় ফেনী নদীর ওপর ত্রিপুরার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী মৈত্রী সেতু নির্মাণ করা হয়। ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ি বন্দরের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেওয়ায় মৈত্রী সেতু এখনও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

তারপরও ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নিয়ে জাপানের কর্মকর্তারা আশাবাদী। তারা বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হলে এই বন্দরের উপযোগিতা ও গুরুত্ব আরও বাড়বে।”

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি চার দিনের সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ২৬ অক্টোবর থেকে এই সফর শুরু হওয়ার কথা।

এ সফরে জাপানের কাছে ১,৪০০ কোটি ডলারের কৌশলগত বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন