কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ; হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়নে সাত দিনের সময়সীমা
রাজধানীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবার মান ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন পরিদর্শন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে গুলশানের বাসভবন থেকে বেরিয়ে তিনি প্রথমে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে যান। সেখানে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে বের হন তারেক রহমান। রাজধানীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও পরিচ্ছন্নতার অবস্থা সরেজমিনে দেখতেই তাঁর এ পরিদর্শন।
কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ
দিনের শুরুতে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন তিনি। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সময় দেন তিনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিদর্শন
হাসপাতাল পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী যান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর এ রোগে বহু মানুষ আক্রান্ত হন, অনেকের মৃত্যুও হয়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। আর এ জন্য নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াইয়ের সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।”
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নাগরিকদের অংশগ্রহণের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর, যেখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাঁদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়; নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।
পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্ম পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার কাজে সক্রিয় হলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি নগরীর পরিবেশ উন্নয়নেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান
এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কর্মসূচির আওতায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলমান পরিদর্শনের মাধ্যমে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গৃহীত ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি।

