মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ফোর্ট হুড হামলার জন্য দায়ী মেজর নিদালের মৃত্যুদণ্ড অনলাইনে দেখানোর বিষয়টি তিনি সমর্থন করেন। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেছিলেন, তিনি মৃত্যুদণ্ডের সরাসরি সম্প্রচার দেখবেন না।
এই মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে দেখানোর পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা বাড়ার পর ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক ভালো ও সৎ মানুষই হয়তো তাকে মরতে দেখতে চাইবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকা কীভাবে সন্ত্রাসীদের এবং হাসানের মতো জঘন্য ব্যক্তিদের মোকাবিলা করে, এই মৃত্যুদণ্ড সবার দেখার জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তা বিশ্বের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা হতে পারত।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘নির্ধারিত সময়েই ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে, তবে এই ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না।’
২০০৯ সালে টেক্সাসের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নিদাল হাসান নিরস্ত্র ১৩ মার্কিন সেনাকে গুলি করে হত্যা করেন এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেন। ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়াটা হবে ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম কোনো সামরিক মৃত্যুদণ্ড।
ট্রাম্প জানান, ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা সরাসরি উপস্থিত থেকে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়াটি দেখতে পারবেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের ন্যায়বিচার দেখার অধিকার রয়েছে!’
পেন্টাগন গত সপ্তাহে ঘোষণা করে, ২০২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
সে সময় হেগসেথ বলেছিলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি সবার দেখার জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
গত শুক্রবার ট্রাম্প নিদাল হাসানকে ‘সম্পূর্ণ উন্মাদ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘সে কীভাবে মারা গেল, তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই; মূল কথা হলো তার মৃত্যু হওয়া উচিত। আমার মতে, মৃত্যুদণ্ডই তার জন্য উপযুক্ত শাস্তি।’
তিনি আরও বলেছিলেন, সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনাটিকে তিনি পুরোপুরি সমর্থন করেন।

