মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবমুক্ত রেখে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের উদ্যোগ

ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে তিন জেলায় পাইলট প্রকল্প, সফল হলে সারা দেশে সম্প্রসারণ; ৬৪ জেলায় খাদ্য পরীক্ষার মিনি ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা

ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবমুক্ত রেখে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে তিনটি জেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ আয়োজিত খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সহজ হবে ধান বিক্রির প্রক্রিয়া

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব খোলা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে গিয়ে কৃষকদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে কৃষক যাতে সহজে ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে কৃষকদের ধানের মূল্য পরিশোধের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা এবং ধান সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের ঘরে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

খাদ্য বিভাগের সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধান

খাদ্য বিভাগের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে আফরোজা খানম বলেন, গত ১৭ বছরে জমে থাকা সমস্যাগুলো রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। এসব সমস্যা সমাধানে সময় প্রয়োজন।

কর্মকর্তাদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জনস্বার্থে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

খাদ্যশস্যের মান ও পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিতের নির্দেশ

খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যেকোনো সংকট মোকাবিলায় মানসম্মত চাল ও গমের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা জরুরি। বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, আমদানিসহ সব উৎস থেকে সংগৃহীত খাদ্যশস্য নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করলেই গ্রহণ করতে হবে। খাদ্যশস্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না।

খাদ্য বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে

সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিতরণ করা খাদ্যশস্যের প্যাকেটে নির্ধারিত সিল দিতে হবে এবং প্রতিটি পর্যায়ে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

এর ফলে খাদ্যশস্য বিতরণের প্রমাণ সংরক্ষণ, অনিয়ম শনাক্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা সহজ হবে। সরকারি খাদ্যশস্য যাতে নির্ধারিত উপকারভোগীদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

৬৪ জেলায় খাদ্য পরীক্ষার মিনি ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। খাদ্যপণ্য, দুধ, জুসসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে খাদ্য পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত মিনি ল্যাব না থাকলেও দ্রুত দেশের ৬৪ জেলায় খাদ্য পরীক্ষার মিনি ল্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ল্যাবের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতামতকে গুরুত্ব

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাই জনগণের প্রকৃত চাহিদা ও সমস্যাগুলো সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তাই মন্ত্রণালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় ও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুঃ জসীম উদ্দিন খান ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ জামাল হোসেন। সভায় চট্টগ্রাম জেলার খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন