মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

তামাক ব্যবহারে বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি

তরুণদের নিকোটিনের আসক্তি থেকে রক্ষায় কঠোর নীতিমালার তাগিদ, তামাক ব্যবহারে বছরে অর্থনৈতিক ক্ষতি ৮৭ হাজার কোটি টাকা

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে রক্ষা এবং দেশে তামাকের ব্যবহার কমাতে কার্যকর আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

আজ রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০২৬: পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মো. আখতারউজ-জামান। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের উপপরিচালক মো. মোখলেসুর রহমান সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়ক মো. শরিফুল ইসলাম।

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত কার্যকরের আহ্বান

আলোচনা সভায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও তামাক নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০২৬ দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানান। আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের নিকোটিন পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করার ওপর জোর দেন তাঁরা।

বক্তারা বলেন, তামাকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধে কার্যকর আইন, নীতিমালা ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তামাক ব্যবহার করেন প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ

বৈশ্বিক প্রাপ্তবয়স্ক তামাক জরিপ (জিএটিএস) এবং তামাকের অর্থনৈতিক ব্যয় নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করেন।

তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয়। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৪৬ জনের মৃত্যু ঘটে তামাক ব্যবহারের কারণে।

বক্তারা বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু মানুষের স্বাস্থ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতি, কর্মক্ষমতা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও।

বছরে অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা

আলোচনা সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়, কর্মক্ষমতা হ্রাস এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কারণে তামাক ব্যবহারে প্রতিবছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।

বক্তারা মনে করেন, তামাকের ব্যবহার কমানো গেলে একদিকে যেমন তামাকজনিত রোগ ও অকালমৃত্যু কমানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ ও অর্থনৈতিক ক্ষতিও হ্রাস পাবে।

পরিবেশের ওপরও তামাক চাষের নেতিবাচক প্রভাব

বক্তারা তামাক চাষের কারণে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, তামাক চাষের সঙ্গে বন উজাড়, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের মতো পরিবেশগত সমস্যা জড়িত।

তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি কমাতেও তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।

ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করার দাবি

আলোচনা সভায় ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের নিকোটিন পণ্যের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা জানান, বিশ্বের ৪০টি দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ রয়েছে। বাংলাদেশেও এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

তাঁদের মতে, তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে সুরক্ষিত রাখতে নতুন ধরনের নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোকাদ্দেম হোসেন, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, তামাকের ব্যবহার হ্রাস এবং তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে রক্ষায় আইনগত উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন