দায়িত্ব ছাড়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নামে একটি মহাসাগর ও বড় নদীর নামকরণ চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট, আগেও বদলেছেন উপসাগর ও হ্রদের নাম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আটলান্টিক মহাসাগর অথবা প্রশান্ত মহাসাগরের যেকোনো একটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ কিংবা ‘আমেরিকা মহাদেশগুলোর মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নামে একটি মহাসাগর ও একটি বড় নদীর নামকরণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টোবর) টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ক্লার্কসভিলে এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তাঁর মন্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত কয়েকজন হাসেন এবং হাততালি দেন।
‘ট্রাম্প মহাসাগর’ নাম রাখার প্রস্তাব
সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নামে একটি মহাসাগর ও একটি বড় নদীর নাম থাকা উচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের উপসাগর আছে। আমাদের একটি সুন্দর হ্রদ আছে। এখন একজন বলেছেন, আমাদের একটি নদীও দরকার। আমাদের একটি মহাসাগরও দরকার।’
এরপর আটলান্টিক অথবা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি। রসিকতার ছলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, মহাসাগরটির নতুন নাম তাঁর নিজের নামেও রাখা হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এর নাম দিতে পারি “ট্রাম্প মহাসাগর” অথবা “আমেরিকা মহাদেশগুলোর মহাসাগর”—এ রকম কিছু।’
তাঁর এ মন্তব্যের পর সমাবেশে উপস্থিত কয়েকজনকে হাসতে ও হাততালি দিতে দেখা যায়।
আগেও বদলেছেন উপসাগর ও হ্রদের নাম
ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য নতুন নয়। এর আগে তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। গত বছর নেওয়া ওই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মেক্সিকোর সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।
নতুন নাম ব্যবহারের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করায় সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সঙ্গেও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনার জন্ম দেয়।
এ ছাড়া গত আগস্টে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার মাঝামাঝি অবস্থিত অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা হ্রদ’ রাখেন ট্রাম্প। বাণিজ্য ও শুল্কনীতি নিয়ে কানাডার নেতাদের সঙ্গে বিরোধের সময় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
হাডসন ও মিসিসিপি নদীর নাম বদলাতে চান না
শনিবারের সমাবেশে ট্রাম্প অবশ্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর নাম পরিবর্তন না করার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হাডসন নদী এবং টেনেসি অঙ্গরাজ্যের পশ্চিম সীমানা নির্ধারণে ভূমিকা রাখা মিসিসিপি নদী।
অভিযাত্রী হেনরি হাডসনের নামে হাডসন নদীর নামকরণ করা হয়েছে। নদীটির নাম পরিবর্তন না করার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক আগে লোকটা ওই জিনিসটা স্থাপনের কাজ ভালোভাবেই করেছিল।’
অন্যদিকে মিসিসিপি নদীর প্রতি নিজের অনুরাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি মিসিসিপিকে ভালোবাসি। আমরা ওই অঙ্গরাজ্যে বিপুল ব্যবধানে জিতেছি।’
নির্বাচনে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ভালো ফল করার কারণে ওই অঞ্চলের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ রয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প।
নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন
যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের মধ্যে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবও রয়েছে। গত মাসে তিনি অঙ্গরাজ্যটির নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার কথা বলেন।
তবে এ পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে হলে অঙ্গরাজ্যটির সরকার ও কংগ্রেসের পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিউ মেক্সিকোর বাসিন্দাদের ওপর নির্ভর করবে।
অঙ্গরাজ্যটির একজন রিপাবলিকান কংগ্রেস প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করব না। তবে অনেকেই এটি বেশ পছন্দ করছেন।’
ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা
প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। তবে কোনো স্থানের নাম পরিবর্তনের সরকারি স্বীকৃতি, বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিকভাবে সেই নাম গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
বেসরকারি অনলাইন মানচিত্র সেবাগুলো অনেক ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া নতুন নাম গ্রহণ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কোনো স্থানের নাম পরিবর্তন করা হলেও আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলে যায় না।
আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প আবারও ভৌগোলিক নামকরণকে রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ করেছেন। তবে তাঁর সর্বশেষ মন্তব্যের পর কোনো মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য নেই।

