রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বক্তাবলীতে ইটভাটা ও মাটিকাটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ; গুলিবিদ্ধ তরুণের অভিযোগ, হালিম আজাদের গুলিতে আহত হয়েছেন তিনি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নে ইটভাটা ও অবৈধ মাটিকাটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আধিপত্যের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সামেদ আলীর ছেলে হৃদয় গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে ইউনিয়নের আকবরনগর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা যায়নি। সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ইটভাটা ও মাটিকাটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ

স্থানীয়দের ভাষ্য, বক্তাবলী ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম তীরে অবৈধভাবে মাটি কাটা এবং ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সামেদ আলী। অপর পক্ষে রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খবির মিয়া।

স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব ইটভাটা ও মাটিকাটা সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ ছিল ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীর হাতে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর হালিম আজাদ ও খবির মিয়ার অনুসারীরা এসব কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন বলে তাঁদের অভিযোগ।

সম্প্রতি নজরুল ইসলাম প্রধানের সঙ্গে সমঝোতা করে শওকত আলীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সামেদ আলী এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর ইটভাটা ও মাটিকাটার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে বলে স্থানীয়রা জানান।

মহড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হৃদয়

স্থানীয়দের দাবি, শনিবার দুপুরে হালিম আজাদ ও খবির মিয়ার অনুসারীরা দলবল নিয়ে সামেদ আলীর এলাকা আকবরনগরে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে সামেদ আলীর ছোট ছেলে হৃদয় গুলিবিদ্ধ হন। সংঘর্ষে আরও অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গুলিবিদ্ধ হৃদয় অভিযোগ করেন, বাসা থেকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁর দাবি, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নেতৃত্বে একদল লোক তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং হালিম আজাদ তাঁকে পিস্তল দিয়ে গুলি করেন।

পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে হালিম আজাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুই নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি

সংঘর্ষের বিষয়ে নজরুল ইসলাম প্রধান ও হালিম আজাদের বক্তব্য জানতে তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, তিনি শুনেছেন, নজরুল ইসলাম প্রধান একটি কর্মসূচিতে ছিলেন। সেখানে হালিম আজাদ দলবল নিয়ে যান এবং তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগের একজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে বলে তাঁর কাছে খবর এসেছে।

শহীদুল ইসলাম টিটু আরও বলেন, তিনি নজরুল ইসলাম প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলতে পারেননি। ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

বক্তাবলীতে ধারাবাহিক সংঘাতের বিষয়ে দলের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবার এ ধরনের ঘটনায় ছাড় দেওয়া হবে না। আগেও এনসিপির সঙ্গে একটি বিরোধের ঘটনা ঘটেছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে। বর্তমান ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আগের হামলার ঘটনার ১২ দিনের মাথায় নতুন সংঘর্ষ

উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে মাটিকাটা নিয়ে প্রতিবাদ করায় জেলা এনসিপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে হালিম আজাদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর ১২ দিনের মাথায় বক্তাবলীতে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনায় আবারও হালিম আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পুলিশের

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) শামিম হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করার তথ্য পাওয়া যায়নি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন