আব্দুল্লাহ গ্রুপের ৮ ও মজিদ গ্রুপের ৭ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। বনজীবীদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় নিয়ন্ত্রণে অভিযান জোরদারের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল।
সুন্দরবনে জলদস্যুতা, বনজীবীদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মধ্যে আলিফ বাহিনীর ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আব্দুল্লাহ গ্রুপের আটজন এবং মজিদ গ্রুপের সাতজন রয়েছেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) তাঁরা এসআরবি-৬ খুলনার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) এসআরবি-৬ খুলনার মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা এবং অপরাধমূলক জীবনের অনিশ্চয়তার কারণে দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
আব্দুল্লাহ ও মজিদ গ্রুপের ১৫ সদস্যের আত্মসমর্পণ
এসআরবি-৬ খুলনার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী ১৫ সদস্যের মধ্যে আব্দুল্লাহ গ্রুপের আটজন এবং মজিদ গ্রুপের সাতজন রয়েছেন। তাঁরা সম্মিলিতভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব তৎপরতার ফলে দস্যু বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
তবে আত্মসমর্পণকারীদের নাম, তাঁদের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র বা গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে কি না এবং আত্মসমর্পণের বিস্তারিত শর্ত সম্পর্কে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
বনজীবীদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় দীর্ঘদিনের উদ্বেগ
সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহকারী জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপত্তা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের বিষয়। বনজ সম্পদ আহরণ ও মাছ ধরতে গিয়ে এসব পেশার মানুষকে কখনো কখনো দস্যুদের হামলা, অপহরণ এবং মুক্তিপণ দাবির মুখে পড়তে হয়।
বিশেষ করে দুর্গম নদীপথ ও বনের গভীর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দস্যুদের তৎপরতার কারণে বনজীবীদের জীবিকা, নিরাপত্তা এবং পরিবারের আর্থিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ পরিস্থিতিতে দস্যু বাহিনীর সদস্যদের আত্মসমর্পণকে সুন্দরবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে এসআরবি-৬।
অভিযান জোরদার, নজরদারিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের আশা, দস্যু বাহিনীর সদস্যদের আত্মসমর্পণের ফলে সুন্দরবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি বনজীবীরা যেন অপহরণ, মুক্তিপণ ও অন্যান্য অপরাধের ভয় ছাড়াই জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি।
আত্মসমর্পণকারীদের আদালতে সোপর্দ করা হবে
এসআরবি-৬ খুলনার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, আত্মসমর্পণকারী ১৫ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
অর্থাৎ, আত্মসমর্পণের পর তাঁদের বিরুদ্ধে চলমান বা প্রযোজ্য মামলার বিষয়গুলো আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
সব মিলিয়ে, সুন্দরবনে জলদস্যুতা ও বনজীবীদের অপহরণ-মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মধ্যে আলিফ বাহিনীর ১৫ সদস্যের আত্মসমর্পণ নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এ পদক্ষেপ সুন্দরবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।

