বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

গাজনার বিলে নিষিদ্ধ জাল ও বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেটে মাছ শিকার

পাবনার সুজানগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গাজনার বিলে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি, বেড় ও খড়া জালের পাশাপাশি ক্ষতিকর বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট ব্যবহার করে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন প্রকাশ্যে এভাবে মাছ শিকার ও স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করা হলেও কার্যকর নজরদারি না থাকায় অসাধু মৎস্যজীবীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এভাবে নির্বিচারে মাছ শিকার অব্যাহত থাকলে শুষ্ক মৌসুমে গাজনার বিলে মাছের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকার সচেতন মহল। তাদের মতে, বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট ব্যবহার করে মাছ শিকার শুধু মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্যই ক্ষতিকর নয়, একই সঙ্গে বিলের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

শত শত মৎস্যজীবীর বসবাস

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গাজনার বিলের আশপাশের ৮ থেকে ১০টি গ্রামের প্রায় ৪ থেকে ৫ শত মৎস্যজীবী ও মৎস্য শিকারি বিলের ওপর নির্ভরশীল। তাদের অনেকেই বিভিন্ন ধরনের জাল ব্যবহার করে বিল থেকে মাছ শিকার করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি, বেড় ও খড়া জালের পাশাপাশি কিছু অসাধু মৎস্যজীবী মাছ শিকারে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট ব্যবহার করছেন। এতে বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছ ও বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে গ্যাস ট্যাবলেট

বিলপাড়ের উলাট গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু শেখ জানান, কতিপয় অসাধু মৎস্যজীবী প্রথমে বিলের নির্দিষ্ট একটি জায়গা বেড় জাল দিয়ে চারদিক থেকে ঘেরাও করেন। এরপর ঘেরাও করা স্থানের পানিতে ক্ষতিকর বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করা হয়।

তিনি বলেন, গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগের পর ওই এলাকার রুই, কাতলা, পুঁটি, শিং, শোল, বানসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অসুস্থ হয়ে পানির ওপর ভেসে ওঠে। এ সময় মৎস্যজীবীরা সহজেই সেসব মাছ ধরে ফেলেন।

স্থানীয়দের দাবি, এ পদ্ধতিতে মাছ শিকার করলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ একসঙ্গে মারা পড়া বা অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবে মাছের বংশবিস্তার ও জলজ পরিবেশের ভারসাম্য ব্যাহত হতে পারে।

দুপুর ও রাতেও চলছে মাছ শিকার

একই এলাকার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন অভিযোগ করেন, মৎস্যজীবীরা প্রতিদিন দুপুর ও রাতে গাজনার বিল থেকে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট ব্যবহার করে মাছ শিকার করছেন। পরে এসব মাছ প্রকাশ্যেই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে কার্যকরভাবে দেখভাল করার কেউ না থাকায় মৎস্যজীবীরা অবাধে এ ধরনের ক্ষতিকর পদ্ধতিতে মাছ শিকার করছেন। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে মাছ শিকার চলতে থাকলে বিলটিতে মাছের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অভিযানের আশ্বাস মৎস্য কর্মকর্তার

বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে মাছ শিকারের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে গাজনার বিলে অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গাজনার বিলের মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ জাল এবং বিষাক্ত উপাদান ব্যবহার করে মাছ শিকার বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন