ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের মধ্যে গাজা উপত্যকায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক উপগ্রহভিত্তিক মূল্যায়নে। ফিলিস্তিনি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (পিসিবিএস) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ২৯০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংখ্যা উপত্যকার মোট ভবনের আনুমানিক ৮২ শতাংশ।
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউনোস্যাট) পরিচালিত সর্বশেষ স্যাটেলাইটভিত্তিক মূল্যায়নের তথ্যের ভিত্তিতে পিসিবিএস এসব পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। বিশ্ব আবাসন দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত পিসিবিএসের প্রতিবেদনে গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে আবাসন ও অবকাঠামো ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
ধ্বংস হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি ভবন
পিসিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ২ লাখ ১ হাজার ২৯০টি ভবনের মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪২২টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। আরও ১৩ হাজার ৮৪৮টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ২৪ হাজার ৯২৪টি ভবন সামান্য এবং ২৮ হাজার ৯৬টি ভবন মাঝারি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপগ্রহভিত্তিক মূল্যায়নে গাজায় ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ইউনিটের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬২৭টি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ভবন ধ্বংসের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের আবাসনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পশ্চিম তীরের শরণার্থী শিবিরেও ব্যাপক ক্ষতি
গাজার বাইরে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কয়েকটি শরণার্থী শিবিরেও ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতির তথ্য জানিয়েছে পিসিবিএস।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেনিন শরণার্থী শিবিরে ৬৮০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা শিবিরটির মোট স্থাপনার প্রায় ৫৩ শতাংশ। একই সময়ে নূর শামস শরণার্থী শিবিরে ৪৩৪টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মোট স্থাপনার প্রায় ৫৫ শতাংশ। তুলকার্ম শরণার্থী শিবিরে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা ৪০৭টি, যা মোট স্থাপনার প্রায় ৩৭ শতাংশ।
পিসিবিএস বলছে, উত্তর পশ্চিম তীরের এসব এলাকায় আবাসন ও অন্যান্য স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে।
পানি ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামোতেও বড় ক্ষতি
পিসিবিএসের একই প্রতিবেদনে গাজার পানি ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামোর ক্ষতির চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজার পানি ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৮২ শতাংশ পরিবার পানি-নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ পরিবার প্রতিদিন মাথাপিছু মাত্র ৬ লিটার পানি পাচ্ছে বলে পিসিবিএস জানিয়েছে।
ধ্বংসের মাত্রা তুলে ধরছে স্যাটেলাইট তথ্য
গাজার অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে নিয়মিত মূল্যায়ন করে আসছে ইউনোস্যাট। এর আগের মূল্যায়নগুলোতেও গাজায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ার চিত্র উঠে এসেছিল। সর্বশেষ মূল্যায়নে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে, যা মোট ভবনের প্রায় ৮২ শতাংশ।
পিসিবিএস জানিয়েছে, গাজায় আবাসন সংকটের পাশাপাশি অবকাঠামো ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতি ও বসতবাড়ি হারানোর কারণে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

