রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

বীরত্বের অমর দৃষ্টান্ত হাবিলদার আব্দুল বারী, ৩৭তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ

বীরত্ব ও কর্তব্যনিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত শহিদ হাবিলদার মো. আব্দুল বারী, বীর প্রতীকের ৩৭তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ। ১৯৮৯ সালের ৩ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রামের লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার লামাছড়ি এলাকায় এক অভিযানে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।

১৯৮৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে ২ ইস্ট বেঙ্গল (জুনিয়র টাইগার্স)-এর সঙ্গে তৎকালীন মানিকছড়ি জোনে কর্মরত ছিলেন হাবিলদার আব্দুল বারী। ওই বছরের ৩ অক্টোবর লামাছড়ি এলাকায় সশস্ত্র শান্তিবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহ মো. সুলতান উদ্দিন ইকবালের নেতৃত্বে একটি অ্যামবুশ পরিচালনা করা হয়। অভিযানে হাবিলদার বারী একটি উপদলে স্কাউট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অভিযানের একপর্যায়ে সশস্ত্র দলের সদস্যরা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে গুলিবর্ষণ শুরু করলে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা জবাব দেন। গুলিবিনিময়ের মধ্যে সশস্ত্র দলের এক সদস্য পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে হাবিলদার বারী তাকে ধাওয়া করেন। এ সময় তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি পলাতক সদস্যকে গুলি করে ধরাশায়ী করেন।

অপারেশন শেষে আহত হাবিলদার বারীকে উদ্ধার করে জরুরি ভিত্তিতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি কর্তব্যরত ক্যাপ্টেন মোজাম্মেলকে তাঁর পরিবার ও সন্তানদের দেখভালের অনুরোধ জানান। এরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

কর্তব্যের প্রতি তাঁর অসীম নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাঁকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করেন।

শহিদ হাবিলদার মো. আব্দুল বারীর আত্মত্যাগ ও বীরত্ব পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযানিক ইতিহাসে গৌরবের সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে আছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন