বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ডিবি পরিচয়ে ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ, কলাপাড়ার দুই নেতা বহিষ্কার

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মহিপুর সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল কলেজ ছাত্রদলের সদস্য মেহেদী হাসান ফারুক অভিযোগ করেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মহিপুর বাজার থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে কলাপাড়ার একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ফারুক অভিযোগ করেন, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম, রাশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ আনেন তিনি।

ফারুকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে তুলে নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের কয়েকজনের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। পরে কলাপাড়ার একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। রাত ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নির্যাতনের সময় তিনি অভিযুক্তদের কাছে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আকুতি জানিয়েছিলেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান। তার দাবি, তিনি অভিযুক্তদের পা ধরে নিজের অসুস্থ মায়ের কথা বলেও তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন; তবে তাতেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, ফারুক ১০ থেকে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটির বিষয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে।

তবে বহিষ্কৃত দুই নেতার বক্তব্য এ প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন