অনুমোদনহীন ও নিম্নমানের বালাইনাশক বিক্রিতে কঠোর ব্যবস্থা; প্রদর্শনীতে লাগবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অনুমোদন
প্রান্তকাল প্রতিনিধি | সিরাজগঞ্জ
কৃষকের কাছে মানসম্মত ও নিরাপদ বালাইনাশক পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সিরাজগঞ্জে বাজার তদারকি ও অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুমোদনহীন, নকল ও ভেজাল বালাইনাশক বিক্রির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা ভিজিল্যান্স টিম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সিরাজগঞ্জ জেলা ভিজিল্যান্স টিমের বিশেষ সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় বালাইনাশক আইন ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারা ও প্রয়োগ, লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, তদারকি ব্যবস্থা, নতুন নিবন্ধিত বালাইনাশকের নিরাপদ ব্যবহার এবং কৃষক পর্যায়ে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম মনজুরে মাওলা।
তিনি বলেন, কৃষকরা যাতে নিম্নমানের বা ভেজাল বালাইনাশক কিনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে জেলা ভিজিল্যান্স টিম কঠোর অবস্থানে থাকবে। আইন অমান্য কিংবা ভেজাল বালাইনাশক বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বালাইনাশকের প্রদর্শনীতে নিতে হবে অনুমোদন
সভায় জানানো হয়, কোনো কোম্পানি বালাইনাশকের প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে তদারকি আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়।
একই সঙ্গে বালাইনাশক আইন ২০১৮ মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং বিধি অনুযায়ী যথাসময়ে লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নতুন নিবন্ধিত বালাইনাশকের পরিচিতি, সঠিক প্রয়োগপদ্ধতি ও নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে কৃষকদের যথাযথ তথ্য দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবেশক ও কোম্পানি প্রতিনিধিদের কর্তৃত্বপত্র প্রদানসহ সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
প্রতিটি দোকানে জৈব বালাইনাশকের কর্নার রাখার নির্দেশনা
অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কৃষিবিদ মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, প্রতিটি বালাইনাশকের দোকানে জৈব বালাইনাশকের জন্য আলাদা কর্নার রাখতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এপি, এপি (বায়ো) ও পিএইচপি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এবং বালাইনাশক পরীক্ষার জন্য কোন ফরম ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।
এ ছাড়া বালাইনাশকের লাইসেন্সিং কার্যক্রম অটোমেশনের প্রক্রিয়াও তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ও মানসম্মত বালাইনাশকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কৃষকের হাতে নকল, ভেজাল কিংবা অনুমোদনহীন পণ্য পৌঁছানো বন্ধ করতে সরকারি তদারকির পাশাপাশি উৎপাদনকারী, বিপণনকারী ও পরিবেশকদেরও আইন ও বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।
সভায় জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা, সিনিয়র হর্টিকালচার অফিসার, অতিরিক্ত উপপরিচালক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া দেশের ৬০টির বেশি বালাইনাশক প্রস্তুতকারী ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। সিরাজগঞ্জ পেস্টিসাইড অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও সভায় বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিরাজগঞ্জ সদর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সাইদী রহমান।

