সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে পাখি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত এয়ারগানের অনাকাঙ্ক্ষিত ফায়ারে মো. রুবেল মিয়া নামে এক ক্লিনার আহত হয়েছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী রানওয়ে এলাকায় পাখি নিয়ন্ত্রণ ও তাড়ানোর দায়িত্ব পালনের জন্য আনসার সদস্য মো. মোজাম্মেল হক (শুটার) এবং বিমানবন্দরের ক্লিনার মো. রুবেল মিয়া একটি গাড়িতে করে রানওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি হিসেবে গাড়িতে অবস্থানকালে আনসার সদস্য মো. মোজাম্মেল হক পাখি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত এয়ারগানে সীসার কার্তুজ লোড করেন। পরে গাড়ি থেকে রানওয়েতে নামার সময় এয়ারগানটি লোড অবস্থায় গাড়ির দরজার সঙ্গে ধাক্কা লাগলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সেটি ফায়ার হয়।
এ সময় এয়ারগান থেকে বের হওয়া সীসার কার্তুজটি গাড়ির সিট ভেদ করে সামনের আসনে থাকা ক্লিনার মো. রুবেল মিয়ার কোমরের বাম পাশে আঘাত করে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আহত রুবেল মিয়াকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
ঘটনার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সিলেট জেলা কমান্ড্যান্ট এবং সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন।
আনসার বাহিনী জানিয়েছে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী রানওয়েতে পাখি নিয়ন্ত্রণ ও তাড়ানোর কাজে ওই এয়ারগান ব্যবহার করা হয়ে আসছে। তবে দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তাবিধি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে নিশ্চিত করা হবে।

