শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্তে লিপ্ত অপশক্তিকে রাজপথেই মোকাবিলা করব: এ্যানি

বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত নীতি’র অভিযোগ পানিসম্পদমন্ত্রীর

দেশের গণতন্ত্র ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্তে যারা জড়িত, তাদের রাজনৈতিকভাবে রাজপথেই মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে খালের তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ্যানি অভিযোগ করেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। সংসদে এক ধরনের অবস্থান এবং সংসদের বাইরে ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক আচরণ দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সহিংসতা, বোমাবাজি কিংবা ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ হতে পারে না—এমন অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে যারা দেশ ছেড়ে চলে গেছে, তাদের নেতৃত্বে গাড়িতে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিলের মতো ঘটনা ঘটছে। বর্তমান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির কিছু বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের মিল রয়েছে বলেও দাবি করেন এ্যানি।

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, তার দল দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন করেছে এবং অতীতেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ষড়যন্ত্রকারীদের রাজপথে মোকাবিলা করেছে। ভবিষ্যতেও রাজনৈতিকভাবে তাদের মোকাবিলা করা হবে বলে জানান তিনি।

বিরোধী দলের সংসদীয় ও রাজপথের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তার ভাষ্য, সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা বিভিন্ন দাবি ও উন্নয়ন বরাদ্দের বিষয়ে কথা বলেন এবং সরকারও সেসব বিষয়ে সাড়া দেয়। কিন্তু সংসদের বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্যের ভাষা ও রাজনৈতিক আচরণ ভিন্ন হয়ে যায়।

এ্যানি আরও অভিযোগ করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই বিরোধী দলের মধ্যে সরকারকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এসব বক্তব্য পানিসম্পদমন্ত্রীর রাজনৈতিক অভিযোগ; অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের কোনো প্রতিক্রিয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

এদিকে অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরের নদী ও খালভাঙন প্রতিরোধে চলমান ও পরিকল্পিত প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন। স্যান্ড-সিমেন্ট জিওব্যাগ ব্যবহার করে তীর সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী তীর সংরক্ষণের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ওয়াহিদউদ্দীন চৌধুরী হ্যাপিসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন