নিউইয়র্কে সমঝোতা স্মারক সই • নিয়মিত আলোচনার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ • দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ
নিউইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশ ও ক্যারিবীয় রাষ্ট্র ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদারের লক্ষ্যে ‘দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ ব্যবস্থা’ (Bilateral Consultation Mechanism) প্রতিষ্ঠায় একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়েছে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পররাষ্ট্র ও ক্যারিকমবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে চলমান উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে এই নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সূচনা হলো।
সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়মিত পরামর্শ ও আলোচনার একটি কাঠামো তৈরির পথ উন্মুক্ত হলো। এর ফলে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে যোগাযোগ আরও সুসংগঠিত করার সুযোগ পাবে।
ক্যারিবীয় অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগে নতুন মাত্রা
ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ক্যারিবীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র এবং ক্যারিবিয়ান কমিউনিটি—ক্যারিকমের (CARICOM) সদস্য। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নামও ‘Ministry of Foreign and CARICOM Affairs’।
বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর মধ্যে আগে থেকেই কূটনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশের হাইকমিশনার-মনোনীত মো. জসীম উদ্দিন ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পররাষ্ট্র ও ক্যারিকমবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তার পরিচয়পত্রের অনুলিপি উপস্থাপন করেন। সে সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
নতুন দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ ব্যবস্থা কার্যকর হলে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের ক্ষেত্রও আরও বিস্তৃত হতে পারে।
দক্ষিণ–দক্ষিণ সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্ব
বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগো—দুই দেশই উন্নয়নশীল বিশ্বের অংশ। ফলে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের পাশাপাশি দক্ষিণ–দক্ষিণ সহযোগিতা এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতির ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শ ব্যবস্থা তাৎপর্য বহন করে।
ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে সক্রিয় রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র ও ক্যারিকমবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও নতুন সহযোগিতামূলক উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন সমঝোতা স্মারকটি তাই দুই দেশের সম্পর্ককে আরও নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নেওয়ার একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে পরামর্শ সভা আয়োজন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চালানোর সুযোগ তৈরি হবে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ভিত্তি শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

