নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রচলিত উচ্চশিক্ষার ধারণার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটির পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
ইউনূস সেন্টারের প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি গ্রামীণ ইউনিভার্সিটিকে ‘ভিন্ন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের একটি ডিগ্রি দেওয়া নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই তাদের নিজস্ব ব্যবসা ও উদ্যোগ শুরু করার জন্য প্রস্তুত করা।
অধ্যাপক ইউনূসের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত একাডেমিক শিক্ষা ও অনুশীলনের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার প্রস্তুতি নেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই নিজস্ব উদ্যোগ শুরু করতে তাদের উৎসাহিত করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
গ্রামীণ ইউনিভার্সিটির মূল দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে অধ্যাপক ইউনূসের ‘থ্রি জিরো’ ধারণা। বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক তথ্যে বলা হয়েছে, শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণের বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে উচ্চশিক্ষাকে সামাজিক দায়িত্ব, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির সঙ্গে যুক্ত করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, এটি সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন পেয়েছে। ঢাকার উত্তরা-দিয়াবাড়ীতে এর কার্যক্রম গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিকল্পিত একাডেমিক কাঠামোয় ব্যবসা, প্রকৌশল, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞান এবং সোশ্যাল বিজনেসের পৃথক স্কুল রয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূসের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকবে। একাডেমিক যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে উদ্যোগ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সক্ষমতা অর্জন সেই উদ্দেশ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
গ্রামীণ ইউনিভার্সিটিও নিজেদের লক্ষ্য হিসেবে শিক্ষার্থীদের চাকরিপ্রার্থী হওয়ার পরিবর্তে ‘জব-গিভার’ বা কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, উচ্চশিক্ষাকে সামাজিক সমস্যা সমাধান, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করাই তাদের শিক্ষাদর্শনের অন্যতম ভিত্তি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই দৃষ্টিকোণ থেকেই গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি একটি স্বতন্ত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে চায়—যেখানে লক্ষ্য কেবল ডিগ্রি অর্জন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নিজেদের উদ্যোগ গড়ে তোলার সক্ষমতা তৈরি করা।

