মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ মঙ্গলবার নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী।
নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রালে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের বরাতে বাসস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের সম্মানজনকভাবে নিজ দেশে ফেরানোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সংকটটির দীর্ঘমেয়াদি সমাধানেও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে তৎপরতার মধ্যেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানও ২১ সেপ্টেম্বর জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই আলোচনায় কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি, মিয়ানমারের মানবিক সংকট এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
জাতিসংঘের অবস্থান অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মিয়ানমার সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা প্রয়োজন।
এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপকে মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। রোহিঙ্গা সংকটসহ মিয়ানমারের চলমান রাজনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ করছেন তিনি।

