মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা। তাঁর মতে, সরবরাহব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেনেভায় ডব্লিউটিওর ‘পাবলিক ফোরাম’-এর ফাঁকে বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ওকোনজো-ইওয়েলা।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা এখনো উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা দেখাচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ডব্লিউটিওর ১৬৬টি সদস্য দেশের জন্য বড় ধরনের পরীক্ষা তৈরি করেছে।
ডব্লিউটিও মহাপরিচালক জানান, বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরে পণ্য বাণিজ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৭২ শতাংশ ডব্লিউটিওর নির্ধারিত নিয়মকানুনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে চলতি পুরো বছরের জন্য বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে প্রাথমিক পূর্বাভাস দিয়েছিল ডব্লিউটিও। তবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়ায় সেই পূর্বাভাসের তুলনায় বাণিজ্য কার্যক্রমে শক্তিশালী গতি দেখা গেছে।
তবে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন তৈরি হলে এই প্রবৃদ্ধির ধারায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য ও সারের আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় সংকট তৈরি হলে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ও ভোক্তা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীর ওপর দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা, পণ্যমূল্য এবং সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

