শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩ লাখ টাকা সুদের বিরোধে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর, মাটির নিচে মিলল মরদেহ

রাজধানীর লালবাগে সুদের তিন লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে এক আবাসন ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে মাটিচাপা দিয়ে তার ওপর সিমেন্টের ঢালাই দেওয়া হয়। নিখোঁজের তিন দিন পর একটি ভবনের নিচতলার বারান্দার পাশের মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হওয়া অভিযানে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে লালবাগের ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের ২৬ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাসার নিচতলার বারান্দার পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদ মাসুম নামে এক ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে আটক করেছে লালবাগ থানা পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, শেখ ওয়াসিম রনি ও মাসুম পূর্বপরিচিত এবং বন্ধু ছিলেন। রনি ডেভেলপার ব্যবসার পাশাপাশি সুদের কারবার করতেন। প্রায় আট মাস আগে মাসুম রনির কাছ থেকে তিন লাখ টাকা সুদে নেন। এর বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার কথা ছিল। তবে নিয়মিত সুদের টাকা পরিশোধ না করায় তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

স্বজনদের দাবি, গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাওনা টাকা ও জামানতের চেক নিতে মাসুমের পাইকারি কারখানায় যান রনি। সেখানে পাওনা টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় মাসুমের ঘুষিতে রনি অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে কারখানার নিচতলার বারান্দার পাশে গর্ত করে রনিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে মরদেহের ওপর সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়।

নিহতের শ্যালক মুরাদ হোসেন জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকে রনির মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি ও নিখোঁজের অভিযোগ করা হয়। পরে মাসুমের বাড়িতে গিয়ে রনির বিষয়ে জানতে চাইলে তার স্ত্রী জানান, রনি বাসায় এলেও কিছুক্ষণ পর চলে গেছেন। পরবর্তী সময়ে পুলিশের তদন্তে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।

মুরাদ হোসেন বলেন, ‘আমার বোনের স্বামীকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মাটির নিচে চাপা দিয়ে তার ওপর সিমেন্ট ঢালাই করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

নিহতের দুলাভাই নাসির উদ্দিন (নাছু) বলেন, রনি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজছিলেন। শেষ পর্যন্ত এভাবে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর শুনতে হবে, তা তারা ভাবতেও পারেননি।

লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রনি নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দার পাশের মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন