শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণপতি পরিবার হত্যা: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট মামলার শুনানি ৮ সপ্তাহ মুলতবি

রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য এবং আলামত নষ্টের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে করা রিট মামলার শুনানি আট সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছে হাই কোর্ট।

বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজহার উল্লাহ ভূইয়া ও চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

জনস্বার্থে গত ৩০ অগাস্ট রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী মোস্তফা কামাল ও শেখ গোলাম কিবরিয়া।

রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, সিআইডি প্রধান, পিবিআই মহাপরিচালক, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রংপুরের পুলিশ সুপার, কোতোয়ালি থানার ওসি এবং রংপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

শুনানি শেষে আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, “আদালত মৌখিকভাবে বলেছেন, যেহেতু মামলাটি সিআইডি বা ডিবির কাছে গেছে, আদালতও বিষয়টি দেখছে এবং সুপারভিশনে থাকবে। তদন্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখতে রিটটি আট সপ্তাহের জন্য মুলতবি রাখা হয়েছে।”

রংপুর মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাচুয়াপাড়া বা দাসপাড়ার বাসা থেকে গত ২২ অগাস্ট রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুষের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দাবি করে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

রিট আবেদনে বলা হয়, ২৩ অগাস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়, ২৭ অগাস্টের বক্তব্যে হত্যার স্থান ও ঘটনাক্রমে পরিবর্তন আসে। এছাড়া ঘটনাস্থল অপরাধস্থল হিসেবে বিবেচিত হওয়ার পর সেখানে পানির পাম্প চালানোর অভিযোগ ওঠে।

পানির প্রবাহের কারণে রক্ত, ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, পায়ের ছাপসহ অন্যান্য আলামত ক্ষতিগ্রস্ত বা দূষিত হওয়ার আশঙ্কার কথা রিটে বলা হয়েছে।

স্বাধীন, নিরপেক্ষ, কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত নিশ্চিত করতে বিবাদীরা ব্যর্থ হয়েছেন দাবি করে রিটে বলা হয়, আলামত নষ্ট, পরিবর্তন, গোপন, সরিয়ে নেওয়া বা দূষিত হলে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে হাই কোর্টের সাবেক বা বর্তমান কোনো বিচারপতি অথবা উপযুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে। কমিটিতে ফরেনসিক, চিকিৎসা, সাইবার ফরেনসিক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ রাখারও আবেদন করা হয়েছে।

এছাড়া রুলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থল সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা এবং কোনো ধরনের পরিবর্তন, পরিষ্কার, ধোয়া, মেরামত, অপসারণ বা আলামত সরানো থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত রাখার অন্তর্বর্তী নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন