বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য: রিজভী

ডিআরইউর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

সত্যনিষ্ঠ ও যাচাই করা সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব

গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা সমাজে সন্ত্রাস ও ঘুষ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, কোনো তথ্য প্রকাশের আগে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা জরুরি। সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব ও সাহসিকতার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আইনের শাসনের জন্য প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা যেমন প্রয়োজন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকাও তেমনি গুরুত্বপূর্ণ।

‘মাঠের সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের আলো জ্বালিয়ে রেখেছিলেন’

দেশের বিগত ১৭ বছরের গণমাধ্যম পরিস্থিতির সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, ওই সময়ে অনেক সংবাদমাধ্যম থাকলেও স্বাধীনভাবে কথা বলা ও মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত ছিল। ভিন্নমত প্রকাশের কারণে অনেককে গুম ও কারাবরণের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

টেলিভিশন, টকশো, উপস্থাপক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল দাবি করে রিজভী বলেন, এমন পরিস্থিতিতেও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের আলো জ্বালিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন।

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের জীবন ও শারীরিক নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক আহত বা পঙ্গু হয়েছেন, কেউ কেউ প্রাণও হারিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও সত্য তুলে ধরার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

ডিআরইউর সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন তিনি। রাজনৈতিকভাবে কঠিন বিভিন্ন সময়ে সংগঠনটিকে নিজের জন্য একটি আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন রিজভী।

গুজব-অপতথ্যকে নতুন চ্যালেঞ্জ বললেন প্রতিমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা, সাফল্য ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ফলে দ্রুত সংবাদ পৌঁছে দেওয়া সহজ হলেও একই সঙ্গে গুজব, অপতথ্য ও যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে দ্রুততার পাশাপাশি সঠিক ও যাচাই করা তথ্য প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সরকারের সড়ক, রেল যোগাযোগ ও জনসেবাসংক্রান্ত কার্যক্রমে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন ও বাস্তবভিত্তিক মতামত নীতিনির্ধারণে সহায়ক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম এবং সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন