শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য নয়, সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, নাগরিকত্বের ভিত্তিতেই দেশের প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রধান ও প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত—‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’। ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় পরবর্তী বিষয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতি সবার জন্য সমান বাংলাদেশ নিশ্চিত করা।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় বা অন্য কোনো পরিচয়ের কারণে রাষ্ট্রে বৈষম্যের সুযোগ নেই।

অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে বিবেচনা করার যে রাজনৈতিক ধারণা ছিল, দেশের সচেতন জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না। সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, সংবিধানে অধিকার ও সাম্যের বিষয়গুলো শুধু লিখিতভাবে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনেও তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দবন্ধের পরিবর্তে ‘ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি’ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, ইতিবাচক ভাষার চর্চা সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান আরও জোরদার করতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ। উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।

পরে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পলাশী মোড়ের ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন